বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি (Fuel Crisis) বাজারে। ইরানের কড়া অবস্থানের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং ভারত-সহ জ্বালানি নির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে শুরু করেছে।
জ্বালানি সঙ্কটে (Fuel Crisis) ভারতের বিকল্প পথ সৌদি আরব:
এই পরিস্থিতিতে স্বস্তির খবর শোনাল সৌদি আরব। হরমুজ় প্রণালীর বিকল্প হিসেবে তারা ‘পূর্ব-পশ্চিম অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন’ বা পেট্রোলাইনের মাধ্যমে তেল রফতানি শুরু করেছে। প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন আবকাইক তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বর্তমানে এই রুট ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল পাঠানো হচ্ছে, এমনকি ভারতমুখী একটি ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: সন্ত্রাস না থামালে আলোচনা নয়! সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা ভারতের
ঐতিহাসিকভাবে এই পাইপলাইনের গুরুত্ব নতুন নয়। ১৯৮০-র দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় হরমুজ় প্রণালীর ঝুঁকি এড়াতেই সৌদি আরব এই বিকল্প পথ তৈরি করেছিল। পরবর্তীকালে পাইপলাইনের ক্ষমতা বাড়ানো হয় এবং বর্তমানে এটি দিনে সর্বোচ্চ ৭০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহণ করতে সক্ষম। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষিতে সৌদি প্রশাসন এই নেটওয়ার্কের ব্যবহার আরও বাড়িয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
তবে এই বিকল্প পথও কিন্তু পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব এল মান্ডেব প্রণালী, যা ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণে, সেখানে হুথি বিদ্রোহীদের উপস্থিতিও একটি বড় উদ্বেগের কারণ। অতীতে একাধিকবার তারা জাহাজে হামলা ও অপহরণের চেষ্টা করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান চাইলে এই বিদ্রোহীদের সক্রিয় করে এই রুটেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও হরমুজ়ের বিকল্প হিসেবে ‘অ্যাডকপ’ পাইপলাইন ব্যবহার করে তেল রফতানি চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি কাতারের গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রেও ডলফিন পাইপলাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছে। তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই বাইপাস রুটগুলিও আক্রমণের মুখে পড়ে, তাহলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট (Fuel Crisis) আরও তীব্র হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের মতো দেশগুলির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, যা অর্থনীতি ও কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করতে পারে।












