বাংলা হান্ট ডেস্ক: কারাবন্দি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) সঙ্গে তাঁর আইনজীবীদের সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এই নির্দেশ জারি করে শীর্ষ আদালত জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ইমরানের সঙ্গে কাউকে দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ গুরুতর এবং তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর আগেও ইসলামাবাদ হাই কোর্ট একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল।
জেলে গিয়ে ইমরান খানের (Imran Khan) শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
পিটিআই সমর্থক আইনজীবীদের আবেদনের ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি এবং বিচারপতি শহীদ বিলাল হাসানের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আবেদনকারীদের মধ্যে এক জন আইনজীবী রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে গিয়ে ৭৩ বছর বয়সি ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করবেন। শুধু সাক্ষাৎ নয়, ইমরানের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানির সময় পিটিআই-এর আইনজীবী সলমন সফদারকে ‘আদালত বান্ধব’ বা অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিযুক্ত করে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি আদিয়ালা জেল পরিদর্শন করবেন এবং ইমরানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন। পিটিআইয়ের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে ইমরানের সঙ্গে তাঁর আইনজীবী বা পরিবারের কাউকেই দেখা করতে দেওয়া হয়নি, যা তাঁর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অগস্ট মাস থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খান। গত বছরের ২৪ মার্চ ইসলামাবাদ হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সপ্তাহে দু’দিন ইমরানের পরিবারের সদস্যরা জেলে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। কিন্তু সেই নির্দেশ বাস্তবে মানা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন ইমরানের পরিবার।

আরও পড়ুন: আবাস যোজনায় বাড়ি দেওয়ার নাম করে ‘কাটমানি’র দাবি? কাঠগড়ায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি
ইমরানের বোন আলিমা খান প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন, হাই কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জেল কর্তৃপক্ষ পরিবারের কাউকে সাক্ষাতের অনুমতি দিচ্ছে না। এই নিয়ে তিনি আদিয়ালা জেলের সুপারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগও দায়ের করেছেন। সেই মামলা এখনও ইসলামাবাদ হাই কোর্টে বিচারাধীন। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর এই ইস্যুতে নতুন করে চাপ বাড়ল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।












