বাংলাহান্ট ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকের TCS-এর (TCS Nashik Case) কেন্দ্রকে ঘিরে তথাকথিত ধর্মান্তরণ ও হেনস্তা কাণ্ডে প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। এক প্রাক্তন কর্মীর বিস্ফোরক অভিযোগ, অফিসের নির্দিষ্ট ডেস্ককে নাকি কাজের জায়গা হিসেবে নয়, বরং নারী সহকর্মীদের হেনস্তার জন্য ব্যবহার করা হত। এমনকি উচ্চপদস্থ কিছু আধিকারিকের বিরুদ্ধে অশালীন ইঙ্গিত করে মহিলাদের হোটেলে ডাকার অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং কর্পোরেট পরিবেশে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
টিসিএস নাসিকের ঘটনায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য (TCS Nashik Case)
এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে নিদা খান নামের এক অভিযুক্ত, যিনি সংস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে এইচআর প্রধান না হলেও কার্যক্ষেত্রে সেই দায়িত্বই সামলাতেন বলে অভিযোগ। সূত্রের দাবি, তিনি একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে মহিলা কর্মীদের জোর করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করতেন। শুধু তাই নয়, কর্মীদের নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচরণ পালন করতে বাধ্য করা এবং খাদ্যাভ্যাসেও চাপ সৃষ্টি করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি পলাতক বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: সিলিন্ডার ছাড়াই রান্না! হাইড্রোজেন স্টোভে চমক, জ্বালানি সঙ্কটে বিকল্প পথে হাঁটছে দেশ
অন্যদিকে, একাধিক মহিলা কর্মী অভিযোগ করেছেন যে গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি অন্তত নয়জন কর্মী ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে এমন অশালীন আচরণ ও চাপ সৃষ্টি করা হত, যা কোনও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে অকল্পনীয়। এই অভিযোগগুলি সামনে আসতেই প্রশাসনের তরফে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করেছে নাসিক পুলিশ। এ পর্যন্ত ছয়জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার আধিকারিকও রয়েছেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং অশ্বিন চাইনানির নাম উঠে এসেছে। আরও কয়েকজনের খোঁজ চলছে এবং প্রয়োজন হলে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন: হাতে আর সময় নেই, বন্ধ হয়ে যাবে এই ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট! কিন্তু কেন?
এই ঘটনাকে (TCS Nashik Case) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরিশ মহাজন দাবি করেছেন, চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মহিলাদের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। একইসঙ্গে ধর্মীয় আচরণে বাধ্য করার অভিযোগও তিনি তুলেছেন। ইতিমধ্যে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে জনস্বার্থ মামলার মাধ্যমে, যেখানে ‘অবৈধ ধর্মান্তর’ রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। ফলে এই ঘটনা এখন শুধুমাত্র একটি কর্পোরেট বিতর্কে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় স্তরের গুরুতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।












