এই ৩ দেশের মহিলাদের মধ্যে কমছে না ধূমপানের আসক্তি! কী পরিস্থিতি ভারতে? সামনে এল পরিসংখ্যান

Published on:

Published on:

Smoking addiction among women in three countries shows no signs of declining.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ধূমপান (Smoking) নিয়ে একটি মন্তব্য সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। এক আনঅফিসিয়াল কথোপকথনে তিনি জানান, গত মাসেই তিনি ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বহু মানুষ। তবে বিষয়টি শুধুমাত্র একজন রাষ্ট্রনেতার ব্যক্তিগত অভ্যাস পরিবর্তনের গল্প নয়। বরং এটি এমন একটি বৈশ্বিক প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে ধীরে ধীরে তামাক ও সিগারেটের ব্যবহার কমানোর দিকে এগোচ্ছে বিশ্বের বহু দেশ। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ তামাক সেবন ত্যাগ করেছেন। তবুও উদ্বেগের বিষয় হল, এখনও বিশ্বের প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন কোনও না কোনও ধরনের তামাক ব্যবহার করেন।

এই ৩ দেশের মহিলাদের মধ্যে কমছে না ধূমপানের (Smoking) আসক্তি!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহার কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি দেখা যাচ্ছে ইউরোপে, বিশেষত নারীদের মধ্যে। ইউরোপে নারী ধূমপায়ীর হার প্রায় ১৭.৩ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় তিনগুণ। বিশ্বের মোট নারী ধূমপায়ীদের ৪০ শতাংশেরও বেশি ইউরোপেই বসবাস করেন। বুলগেরিয়া, সার্বিয়া এবং গ্রীসের মতো দেশগুলিতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। বুলগেরিয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ তামাক ব্যবহার করেন, যা ইউরোপের সর্বোচ্চ হারগুলির মধ্যে একটি। সার্বিয়ায় মোট ধূমপায়ীর হার ৩১.৫ শতাংশ, যেখানে নারীদের মধ্যে এই হার ১৭.২ শতাংশ। অন্যদিকে, গ্রীসেও ধূমপানের হার প্রায় ৩২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দুর্বল তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে এসব দেশে ধূমপানের প্রবণতা কমার গতি অত্যন্ত ধীর।

আরও পড়ুন:সুন্দরবনের জন্য বাজেটে বড় উপহার, হাসপাতাল থেকে বাঁধ নির্মাণে হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা

ভারতের ক্ষেত্রে ছবিটা তুলনামূলকভাবে কিছুটা আশাব্যঞ্জক। বিভিন্ন সমীক্ষা দেখাচ্ছে, দেশে ধূমপায়ীর (Smoking) সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। বর্তমানে ভারতের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ২৮.৬ থেকে ২৯ শতাংশ মানুষ কোনও না কোনও ধরনের তামাক ব্যবহার করেন। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ৪২ শতাংশ পুরুষ এবং ১৪ শতাংশ নারী তামাক সেবন করেন। ২০২৪ সালে দেশে ধূমপানের হার ছিল ৯.৩ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষদের হার ১৬.৭ শতাংশ হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ১.৪ শতাংশ। তবে ভারতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, এখানে সিগারেটের তুলনায় খৈনি, গুটখা, জর্দা ও বিড়ির মতো ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার অনেক বেশি। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারী ভারতেই বাস করেন।

জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা বা এনএফএইচএস-৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ রাজ্যে মহিলাদের মধ্যে তামাক ব্যবহার কমেছে। তবে মিজোরাম ও সিকিমের মতো কিছু রাজ্যে এখনও এই সমস্যা প্রকট। তামাকের কারণে শুধু স্বাস্থ্য নয়, অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব পড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে তামাকজনিত অসুস্থতা ও তার পরিণতির কারণে ভারতের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা সে সময় দেশের মোট জিডিপির ১.০৪ শতাংশের সমান। চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং অকালমৃত্যুর মতো কারণগুলি এই বিপুল ক্ষতির জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়।

Smoking addiction among women in three countries shows no signs of declining

আরও পড়ুন:বাংলার মানচিত্রে বড় বদল! একসঙ্গে নতুন ৫ টি জেলার ঘোষণা সরকারের

অন্যদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তামাক ব্যবহারের হার কমার প্রবণতা স্পষ্ট। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ২০০০ সালে পুরুষদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ছিল ৭০ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে নেমে এসেছে ৩৭ শতাংশে। আমেরিকা অঞ্চলে ৩৬ শতাংশ হ্রাস রেকর্ড করা হয়েছে, আর আফ্রিকায় তামাক ব্যবহারের হার এখন সর্বনিম্ন, মাত্র ৯.৫ শতাংশ। ব্রাজিল ও নেদারল্যান্ডসকে তামাক নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে সফল দেশগুলির মধ্যে ধরা হয়। ব্রাজিলে ২০১০ সালের পর থেকে তামাক ব্যবহার ৩৫ শতাংশ কমেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সালে যেখানে বিশ্বে প্রায় ১.৩৮ বিলিয়ন মানুষ তামাক ব্যবহার করতেন, সেখানে ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১.২ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, লড়াই এখনও শেষ না হলেও ধীরে ধীরে ধোঁয়ামুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব (Somking)।