পাকিস্তানে হতে চলেছে বড় বদল? বাড়তে পারে মুনিরের ক্ষমতা, তুঙ্গে জল্পনা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব নতুন কোনও বিষয় নয়। দেশের ইতিহাসে একাধিকবার সরাসরি সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে, আবার নির্বাচিত সরকারের সময়ও নীতিনির্ধারণে সেনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার সেই জল্পনাই নতুন মাত্রা পেয়েছে পাকিস্তানের বর্তমান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে (Asim Munir) ঘিরে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসলামাবাদে (Islamabad) অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে প্রেসিডেনশিয়াল ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে এবং সেনাবাহিনীর প্রভাবও আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানে (Pakistan) বাড়তে পারে মুনিরের ক্ষমতা, তুঙ্গে জল্পনা:

জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় শুধু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের বিষয়ই নয়, নতুন প্রদেশ ও প্রশাসনিক ইউনিট তৈরির বিষয়ও রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলির মধ্যে রাজস্ব ও আর্থিক সম্পদের বণ্টন নিয়েও নতুন কাঠামোর কথা ভাবা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা অবশ্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। যদি সত্যিই এমন কোনও সাংবিধানিক ব্যবস্থা তৈরি হয়, যেখানে জাতীয় নীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেনারও উল্লেখযোগ্য বা সমান ক্ষমতা থাকে, তাহলে তা পাকিস্তানের (Pakistan) বর্তমান গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এই মুহূর্তে এসব প্রস্তাব নিয়ে সরকারি ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: বিজ্ঞাপনে বড়সড় বদল! বলা যাবে না ‘১০০ শতাংশ খাঁটি’, FSSAI-র চাপে নতি স্বীকার Emami সহ ৫ সংস্থার

পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। একদিকে রয়েছে দুর্বল অর্থনীতি ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমস্যার অভিযোগ, অন্যদিকে শরিফ এবং ভুট্টো-জারদারি পরিবারের মতো রাজনৈতিক বংশগুলিকে ঘিরে বিতর্ক। সংবাদমাধ্যমের দাবি, সেনাবাহিনীর একাংশ মনে করে, পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই পাকিস্তানের একের পর এক সরকার কার্যকরভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের মতো প্রেসিডেনশিয়াল কাঠামো কিংবা মিশরের রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সম্প্রতি সরকারের এক মন্ত্রীর করা কড়া মন্তব্যও নতুন করে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালেও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের কিছু মিল খুঁজে পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ছিলেন পরভেজ মুশারফ। সেই সময়ের রাজনৈতিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থানের পথ তৈরি করে এবং নওয়াজ শরিফ ক্ষমতাচ্যুত হন। বর্তমানে নওয়াজের ভাই শেহবাজ শরিফ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিসরে সেনা ও সরকারের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশনীতি, নিরাপত্তা এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের প্রভাবের কথা মাথায় রেখে নতুন কোনও সাংবিধানিক ব্যবস্থা সেই ভূমিকা আরও বাড়াবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Speculation mounts that Munir's power could increase in Pakistan.

আরও পড়ুন: ইথানল উৎপাদনের জেরে চিনির দামে আগুন! ১০ বছর পর আমদানির ভাবনা কেন্দ্রের

তবে প্রেসিডেনশিয়াল ব্যবস্থা চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন বাস্তবায়ন সহজ নয়। এর জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। পাকিস্তানের (Pakistan) বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এমন প্রস্তাব কতটা সমর্থন পাবে, তা নিয়েও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় আসেনি। কিন্তু একাধিক প্রতিবেদনে একই ধরনের সম্ভাবনার কথা সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেনার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।