জোড়াফুল না থাকলে সূর্যমুখী? মমতার প্ল্যান B ঘিরে জোর জল্পনা

Published on:

Published on:

Speculations are rife around Mamata Banerjee's Plan B symbol
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাংলার রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) নির্বাচনী প্রতীক। দলীয় ভাঙনের পর জোড়াফুল প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যদি জোড়াফুল দখলে না রাখতে পারে তাহলে কোন প্রতীক নিয়ে লড়বেন, সেই নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, আইনি লড়াইয়ে পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনায় থাকতে পারে সূর্যমুখী ফুল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রতীক সূর্যমুখী ফুল ?

তৃণমূলে কংগ্রেসের প্রতীক নিয়ে জল্পনার সূত্রপাত বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্যকে ঘিরে। রাজনৈতিক দল NCPI-তে যোগ দেওয়া তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের অন্যতম নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের স্বীকৃতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের আলোচনা হয়েছে। সেই মন্তব্যের পর থেকেই বিকল্প প্রতীক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে।

সূত্রের খবর, সম্ভাব্য নতুন প্রতীক হিসেবে সূর্যমুখী ফুলের নাম উঠে আসার পিছনে শুধুমাত্র নান্দনিকতা নয়, রয়েছে একটি বিশেষ রাজনৈতিক কৌশলও। বর্তমান সময়ে তরুণ ভোটারদের এক বড় অংশ, বিশেষ করে Gen Z প্রজন্মের কাছে এই ফুলের বিশেষ জনপ্রিয়তা রয়েছে। সেই কারণেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে এই প্রতীক কার্যকর হতে পারে বলে একাংশের ধারণা।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-সহ একাধিক দেশে Gen Z-দের বিভিন্ন আন্দোলন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে সূর্যমুখী ফুল একটি ইতিবাচক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ভালোবাসা প্রকাশ, কাউকে শুভেচ্ছা জানানো, শিক্ষক বা পরিচিতদের সম্মান জানানো—বিভিন্ন উপলক্ষে এই ফুল ব্যবহার করার প্রবণতা ক্রমশ বেড়েছে। ফলে রাজনৈতিক দল যদি তরুণ সমাজের সঙ্গে আবেগের যোগাযোগ গড়ে তুলতে চায়, তাহলে সূর্যমুখী প্রতীককে গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

যদিও জোড়াফুল প্রতীক ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নে কোনওভাবেই নরম অবস্থান নিতে রাজি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় তাঁর হাত ধরেই ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নির্বাচন করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই প্রতীক ধরে রাখতে আইনি লড়াইও চলছে। কয়েকদিন আগে বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি জানি ওরা প্রতীক পাবে না। কিন্তু যদি ভ্যানিশ কুমার বাবু আমাদের দল শেষ করার জন্য প্রতীক দিয়েও দেন, তাতেও কিছু যায় আসে না। দরকার হলে আমি গলায় প্রতীক ঝুলিয়ে মানুষের কাছে বেরোব।”

Speculations are rife around Mamata Banerjee's Plan B symbol

আরও পড়ুন : ১০ টাকায় বাসে চড়ার দিন শেষ! একলাফে বাড়বে বাস ভাড়া

বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এক সংবাদমাধ্যমকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, অমিত শাহকে বলেছি, আজ ভুপেন যাদব যখন ঘরে আসেন, তাঁকেও আমার প্রথম প্রশ্ন ছিল, স্বীকৃতি কবে হচ্ছে। উনি বললেন, জোড়াফুলটা আগে কে পাবে, সেটা ঠিক হয়ে যাক, খুব শীঘ্রই হয়ে যাবে। একটা মিনিমাম সময় লাগছে।” জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের হাতে থাকবে, তার উত্তর মিলবে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই। তবে তার আগেই সম্ভাব্য বিকল্প প্রতীককে ঘিরে যে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।