বাংলা হান্ট ডেস্ক: গতকাল রাতে ABVP বনাম SFI-সহ একাধিক বাম ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের জেরে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। এই ইস্যুতে সরব হয়ে বৃহস্পতিবার ABVP- র মিছিলে হেঁটেছিলেন যাদবপুরের বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায় (Sarbori Mukherjee)। সেখান থেকেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে এদিন তিনি বলেছেন, ‘এই যাদবপুরই দেশের বিরুদ্ধে কথা তৈরি করার মেশিনারিজ।’
শর্বরীর মন্তব্যের পাল্টা জবাব বামনেতা সৃজন ভট্টাচার্যের
তারপরই একটি ভিডিও বার্তায় যাদবপুরকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া জনিয়েছেন বামনেতা সৃজন ভট্টাচার্য (Srijan Bhattacharya)। একরাশ বিরক্তি নিয়েই এদিন তিনি বললেন, ‘আমি তো এখনো পর্যন্ত বুঝলাম না যে, যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে বিজেপি যে নজিরবিহীন তান্ডব করেছে, তার প্রয়োজনটা কি ছিল? ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ছেলেমেয়েরা নিজেদের মধ্যে বসে সভা করছিল। সেখানে জোর করে বাইরে থেকে এবিভিপির গুন্ডাদের ঢুকতে হবে?’
এরপরেই যাদবপুরের বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সেটাকে ইনডোর্স করছেন যাদবপুরের বিধায়িকা? বহিরাগত গুন্ডাদের ঢুকিয়ে ছাত্রদের ওপর অত্যাচার করা, প্রাণনাশের চেষ্টা করা, আগুন লাগিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে ঢিল ছোঁড়া কি না হয়েছে গতকাল রাতে যাদবপুরে। এটা যাদবপুরের সংস্কৃতির সাথে মানানসই, এটা বাংলার সংস্কৃতির সাথে মানানসই?’
আরও পড়ুনঃ ‘কিছুতেই দেশবিরোধী স্লোগান দিতে দেব না’, যাদবপুরের মিছিল থেকে গর্জে উঠলেন শর্বরী
কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বিজেপি সরকারের উদ্দেশে সৃজন বলেছেন, ‘বুঝতে পারছেন না, গোটা দেশের তরুণ প্রজন্ম আপনাদের প্রত্যাখ্যান করছে? মাত্র কদিন আগে গোটা দেশের তরুণ প্রজন্ম জেন-জি তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে দেশের শিক্ষামন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করিয়েছে। তারপরেও ন্যূনতম লজ্জা শরম নেই? তারপরের ন্যূনতম এই সেন্স নেই, যে এইভাবে জোর করে, গুতোগুতি করে, আসলে আরো বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন কম বয়সী ছেলেমেয়েদের মন থেকে।’
সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এরপরেই তিনি বলেছেন, ‘যদি যাদবপুর সম্পর্কে এত কনসার্ন থাকে, ছাত্র ভোট করুন না, গণতান্ত্রিক রাস্তায় আসুন না, এসএফাই বুঝে নেবে। বারবার আপনারা একই ক্যাসেট, ভাঙা ক্যাসেট বাজিয়ে যাবেন। কেউ প্রশ্ন করলে সেই দেশ বিরোধী, টুকরে টুকরে। আমি তো খোঁজ নিয়েছি এসএফআই-এর ছেলেমেয়েদের কাছে। কেউ কোন দেশবিরোধী কথা বলেনি, কেউ টুকরা হোঙ্গে বলেনি, কেউ নিচু জাত-উঁচু জাত কিচ্ছু বলেনি। এসব বলে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ফের বড় সিদ্ধান্ত! মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিরাট নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
একইসঙ্গে সৃজন এদিন মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের ফসল। আমাদের রাজ্যের, আমাদের দেশের গর্ব।’ বিজিপির বিরূদ্ধে সরব হয়ে তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ‘আমরা সাম্প্রতিককালে দেখেছি বিজেপি আমাদের রাজ্যে সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমান করেছে, সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছবিতে জুতো ঝুলিয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর এই ধরনের আক্রমণ, কি করতে চাইছেন? এগুলো যত করবেন আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন ছাত্রদের থেকে। বারবার বলছি এই রাস্তায় হাঁটবেন না, গণতন্ত্রের পথে আসুন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সামনে এবিভিপি গণতন্ত্রের রাস্তায় দাঁড়ানোর সাহস টুকু জোটাক। এই গুন্ডামি যাদবপুরের মানুষরাও মানবেন না, যাদবপুরের ছাত্ররাও মানবেন না।














