বাংলা হান্ট ডেস্ক: দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন মার্কিন ডলারের বিরুদ্ধে রীতিমতো অভিযান (De-Dollarization Strategy) শুরু হয়েছে। তবে, ব্রিকসে (BRICS Summit) অভিন্ন কারেন্সি সংক্রান্ত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারত (India ) সরকার জানিয়েছে যে, বর্তমানে এই গোষ্ঠীর মধ্যে এমন কোনও মুদ্রার প্রস্তাব করা হচ্ছে না। তবে, সদস্য দেশগুলির মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য নিষ্পত্তি এবং পেমেন্ট ব্যবস্থা সংযুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর অর্থ হল, ব্রিকস দেশগুলি মার্কিন ডলারের ওপর তাদের নির্ভরশীলতা কমাতে চায়।
মার্কিন ডলারের (De-Dollarization Strategy) বিরুদ্ধে বাজল দামামা?
জানিয়ে রাখি যে, বিদেশ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক সচিব সুধাকর দালেলা জানিয়েছেন যে, বর্তমানে ব্রিকসের মধ্যে একটি অভিন্ন কারেন্সি চালু করার কোনও প্রস্তাব নেই। তিনি আরও বলেন যে, সদস্য দেশগুলির মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। দালেলার মতে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের খরচ কমানোর একটি কার্যকর উপায় হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ প্রদানকে দেখা হয়। এর লক্ষ্য হল, গ্লোবাল পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট সিস্টেমকে প্রতিস্থাপন না করে বরং পরিপূরক হিসাবে কাজ করা।

ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর প্রচেষ্টা: উল্লেখ্য যে, ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য প্রসারের আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বজুড়ে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। শনিবার ব্রিকস সম্মেলনে জারি করা নিউ দিল্লি ঘোষণাপত্রে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিষ্পত্তির প্রসারের বিষয়ে চলমান আলোচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: একইদিনে জোড়া সাফল্য! হকি জুনিয়র এশিয়া কাপ জিতল ভারতের পুরুষ ও মহিলা দল
পীযূষ গোয়েল আবেদন করেন: ইতিমধ্যেই ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও গত ১১ সেপ্টেম্বর ব্রিকস বিজনেস ফোরামে সদস্য দেশগুলিকে তাদের পেমেন্ট ব্যবস্থা সংযুক্ত করতে এবং স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়াতে আবেদন জানিয়েছেন। ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও UPI-এর উদাহরণ দিয়ে পীযূষ গোয়েল বলেন যে, UPI এখন ১১ টি দেশে গৃহীত হয়। তিনি ব্রিকস দেশগুলিকে পেমেন্ট ব্যবস্থা সংযুক্ত করতে এবং স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য প্রসারে আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ব্রিকস সম্মেলনে ভারত-চিন সম্পর্কে নয়া মোড়! এই ৭ বিষয়ে সম্মতি দুই দেশের
আমেরিকা কেন উদ্বিগ্ন: জানিয়ে রাখি যে, ব্রিকসের মধ্যে ডলার থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখার যেকোনও প্রচেষ্টাকে আমেরিকার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ব্রিকস দেশগুলিকে একটি অভিন্ন মুদ্রা তৈরি করা বা ডলারের বিকল্প কোনও কিছুকে সমর্থন করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, যদি ব্রিকস দেশগুলি একটি নতুন মুদ্রা তৈরি করে অথবা ডলার ছাড়া অন্য কোনও মুদ্রাকে সমর্থন করে, সেক্ষেত্রে তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।













