বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাতারাতি চাকরি (SSC Job Calcelled) হারিয়েছেন রাজ্যের ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এসএসসির ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে দেওয়ার পর থেকে চারিদিকে যেন শুধুই হাহাকার। সংবাদমাধ্যমে হামেশাই উঠে আসছে চাকরিহারা শিক্ষকদের কান্নার ছবি। কেউ প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার করার চেষ্টা করেছেন, তো কোথাও এই ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে শিক্ষক-শিক্ষিকার মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। জেলায় জেলায় আন্দোলনে নেমেছেন চাকরি-হারা শিক্ষকরা। এরই মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের একজন চাকরিহারা শিক্ষক হুঁশিয়ারি দিলেন, ‘যে হাতে অংক কষেছি, সেই হাতে বোমাও বাঁধতে পারি।’
বোমা বানানোর হুঁশিয়ারি চাকরিহারা (SSC Job Calcelled) শিক্ষকদের
জানা যাচ্ছে, চাকরিহারা (SSC Job Calcelled) ওই শিক্ষকের নাম অভিজিৎ গিরি। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সদর মেদিনীপুর শহরে পথ অবরোধ করেছিলেন ওই সমস্ত চাকরিহারা শিক্ষকরা। সেই কর্মসূচি থেকেই এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিজিত গিরি। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করার পর থেকেই জেলার জেলার চাকরি হারিয়েছেন শিক্ষক শিক্ষিকা কোথাও সংখ্যাটা ৯০০ কাছাকাছি তো কোথাও আবার হাজার ছাড়িয়েছে।
শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সদর মেদিনীপুর শহরে পথ অবরোধ করেন চাকরিহারা (SSC Job Calcelled) শিক্ষকরা ৷ সেই কর্মসূচি থেকেই এমন হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় অভিজিৎ গিরিকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গোটা প্যানেল বাতিল হয়ে যাওয়ায় অযোগ্যদের সাথেই চাকরি হারিয়েছেন যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা . আর এটাই কিছুতে মানতে পারছেন না রাজ্যের মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাই নিজেদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে শুক্রবার মেদিনীপুরের পথ অবরোধ করেছিলেন বেশ কয়েকজন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীরা।
বিক্ষোভরত অবস্থায় এদিন কেউ কেউ রাস্তার উপরেই অনেকে গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েছিলেন। চোখের জল নিয়েই এক শিক্ষক জানালেন, ‘এত বছর ধরে সসম্মানে মাথা উঁচু করে বেঁচে ছিলাম। কিন্তু প্যানেল বাদ হয়ে যাওয়ার পর আর স্কুলে থাকতে পারিনি। ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে মুখ দেখাবো কি করে!’ তাছাড়া এভাবে রাতারাতি চাকরি (SSC Job Calcelled) চলে যাওয়ায় পরিবারের কথা ভেবে দুশ্চিন্তার কাটছে সকলের। এমনই একজন শিক্ষক জানিয়েছেন তাঁর বাড়িতে রয়েছে চার বছরের বাচ্চা। তাই স্ত্রী সন্তান সহ গোটা পরিবারের জন্য কিভাবে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দেবেন সেই চিন্তায় তাঁরা আতঙ্কিত। তাঁদের কাছে এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনই একমাত্র উপায়।
আরও পড়ুন: এপ্রিলেই পোয়া বারো সরকারি কর্মীদের! একসাথে ঢুকবে বর্ধিত ও বকেয়া DA
চাকরি বাতিল হওয়ার পর এদিন প্রচন্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষক অভিজিৎ গিরি। এদিন তিনি প্রকাশ্যে বলেন, য’দি আমাদের চাকরিতে সসম্মানে ফেরত দিতে না পারেন, তাহলে মেদিনীপুরের মাটি থেকে নতুন বিপ্লব তৈরি হবে ৷ সেই বিপ্লব স্বাধীনতা সংগ্রামের থেকেও ভয়ঙ্কর হতে পারে ৷ আমি ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ৷ যে মাথা নিয়ে অঙ্ক করেছিলাম, সেই মাথা নিয়ে যদি আমি কোনও খারাপ কাজে যুক্ত হই, আমাকে কিন্তু সামলাতে পারবে না কোনো সরকার ৷’
হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যে হাতে আমি অঙ্ক কষেছি, সেই হাতে যদি আমি বোমা বানাই, পারবে তো রাজ্য আমাকে আটকাতে, আমার মতো এতজনকে আটকাতে পারবে তো ?’ তবে মুখে একথা বললেও পরক্ষণে তিনি জানান এটা তাঁর দুঃখের কথা৷ ভবিষ্যত প্রজন্মের ভালোর কথা ভেবে তিনি কখনও এমন কিছু করবেন না ৷ তাঁর কথায়, ‘আমার পেটে শিক্ষা আছে, আমি নেতা-মন্ত্রীদের মতো মুর্খ নই যে হাতে পেন ধরেছি, সেই হাতে বোমা বানাবো না ৷’