বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিরোধী রাজনীতির ময়দানে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। INDIA জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উপস্থিতি এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা চলছে।
কংগ্রেসে ফিরবেন মমতা (Mamata Banerjee)?
সোমবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিরোধী জোটের বৈঠকে কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক মুহূর্ত নজর কেড়েছে। সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁকে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে দেখা যায়। রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায় তৃণমূল নেত্রীকে। পরে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পাশেই বসেন তিনি। ভবিষ্যতে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের আরও কাছাকাছি আসতে চান, তবে কংগ্রেসে কী তিনি স্থান পাবেন, এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।
মমতার প্রসঙ্গে আজতাক বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “কংগ্রেসের আদর্শ নীতিকে বিশ্বাস করে এবং আরএসএস-র যে বিচারধারা ও বিজেপির যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে যাঁরাই লড়তে চান, তাঁদের জন্য কংগ্রেসের দরজা সব সময় খোলা। রাহুল গান্ধীকে আগামী দিনে যাঁরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান, তাঁরা কংগ্রেসে আসলে, সবাইকে স্বাগত।” শুধু তাই নয়, কংগ্রেসে যোগদানের ক্ষেত্রে দলের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নিয়েই কাউকে এগোতে হবে একথাও স্পষ্ট করে দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। এই প্রসঙ্গে শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, “আমাদের দলে তাঁরা আসবেন, যাঁদের গায়ে দুর্নীতির দাগ নেই। তার কারণ, আমাদের কাছে সেই ওয়াশিংমেশিন নেই। আমাদের কাছে আসতে গেলে দম দরকার, ধক দরকার। এখানে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির ইস্যু নয়। সবাইকে স্বাগত। কোনও মানুষ যদি একদিন কংগ্রেসের বিরোধিতা করে থাকেন, তাঁরা যদি মনে করেন ভারত বাঁচানো দরকার, দেশ বাঁচানো দরকার, তাঁদের জন্য একমাত্র প্রধান সেনাপতি রাহুল গান্ধী।”

আরও পড়ুন : মমতার বাড়ি লাগোয়া তৃণমূলের কার্যালয়ে CID! বিরাট টিম ঘিরে ফেলল এলাকা
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে ফেরার প্রবণতা কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় এই প্রবণতা তুলনামূলক বেশি বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পুরসভায় তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর দলবদল করে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর সেখানে প্রশাসনিক ক্ষমতার সমীকরণও বদলে যায়। দলীয় সূত্রের খবর, অতীতে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়া নেতাকর্মীদের ফের সংগঠনে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সক্রিয়ভাবে ভাবনাচিন্তা চলছে। ফলে আগামী দিনে বাংলার বিরোধী রাজনীতিতে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।













