বাংলা হান্ট ডেস্কঃ জমি কেনার পর মিউটেশন বা পরচা সংক্রান্ত সমস্যায় এত দিন সাধারণ মানুষকে একাধিক সরকারি দপ্তরের দরজায় দরজায় চক্কর কাটাতে হত। সেই ভোগান্তির অবসান ঘটাতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (State Government)। জানা গিয়েছে, জমি সংক্রান্ত যেকোনও সমস্যায় অনলাইনে এক ক্লিকেই অভিযোগ ও আপিল জানানোর ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে প্রশাসন।
জমির মিউটেশন বা পর্চা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে কী ব্যবস্থা নিল রাজ্য সরকার (State Government)?
প্রশাসনিক (State Government) সূত্রে খবর, রাজ্য সরকার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের ‘বাংলার ভূমি’ পোর্টালকে একেবারে নতুন রূপে সাজিয়ে তাতে যুক্ত করছে আধুনিক ‘আপিল মডিউল’। এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট লিঙ্ক থাকবে। সেই নির্দিষ্ট একটি লিঙ্কে ক্লিক করলেই মিউটেশন, পাট্টা এবং বর্গা সংক্রান্ত সমস্যায় অনলাইনে আবেদন করা যাবে। জমি কেনার পর পরচা তৈরি ও মিউটেশন একটি অত্যাবশ্যক প্রক্রিয়া। কারণ, মিউটেশন না হলে সরকারি নথিতে নতুন মালিকের নামে জমির রেকর্ড হয় না।
এই মিউটেশন নিয়েই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রতি বছর হাজার হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। এত দিন এই সব অভিযোগ জানাতে সাধারণ মানুষকে বিডিও অফিস, বিএলআরও বা জেলাশাসকের দপ্তরে একাধিক বার যেতে হত। নতুন ব্যবস্থায় সেই ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলেই মনে করছে নবান্ন।
মিউটেশন প্রক্রিয়ায় সাধারণত ক্রেতা ও বিক্রেতা, এমনকি প্রয়োজনে রেকর্ডভুক্ত মালিককেও শুনানির জন্য ডাকা হয়। শুনানি শেষে রেভিনিউ অফিসার বা বিএলআরও অনুমতি দেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডিস্ট্রিক্ট ল্যান্ড অফিসারের দফতরে আপিল করা হয়। এ বার সেই আপিলের পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিউটেশনের পাশাপাশি বর্গাদারের নাম বাদ পড়া, ফসলের ভাগ নিয়ে বিবাদ এবং জমির অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগও এই নতুন আপিল মডিউলের মাধ্যমে দাখিল করা যাবে।

আরও পড়ুনঃ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে পর্ষদের নতুন বিজ্ঞপ্তি, এবার বাংলা মাধ্যমের ইন্টারভিউ, কবে?
প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার আপিল জমা পড়ে। অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু হলে প্রতিটি মামলার অগ্রগতি এক নজরে দেখা যাবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং লাল ফিতের ফাঁস অনেকটাই কাটবে বলে আশাবাদী প্রশাসনিক মহল (State Government)।













