বোরখায় আপত্তি নেই, তুলসীর মালা পরায় হেনস্থা ছাত্রীকে! শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগে উত্তপ্ত কেষ্টপুরের স্কুল

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক : গলায় তুলসীর মালা পরে যাওয়ায় এক ছাত্রীকে ক্লাসরুম থেকে বের করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল ভিআইপি রোডে (Keshtopur) অবস্থিত কেষ্টপুর দেশপ্রিয় বালিকা বিদ্যালয়। অভিযোগ, তুলসীর মালা পরে যাওয়ায় তা খুলতে জোরাজুরি করেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা। ছাত্রী তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে বের করে দেওয়া হয় ক্লাস থেকে। ঘটনায় পরদিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্কুল প্রাঙ্গণ। পরিস্থিতি সামলাতে পৌঁছায় পুলিশও।

তুলসীর মালা পড়ায় স্কুলে (Keshtopur) হেনস্থা ছাত্রীকে

জানা যাচ্ছে, কেষ্টপুরের ওই স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে ওই ছাত্রী। সোমবার গলায় তুলসী মালা পরে স্কুলে যাওয়ায় অভিযুক্ত সহ শিক্ষিকার রোষের মুখে পড়ে সে। সেই মালা খুলতে রীতিমতো জোর করা হয় তাকে। তারপরেও ছাত্রী মালা খুলতে অস্বীকার করলে তাকে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। উপরন্তু ওই ছাত্রীকে বলা হয়, মঙ্গলবার অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে আসতে, নয়তো স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

Student allegedly harassed for wearing tulsi mala in keshtopur school

দ্বিচারিতা করার অভিযোগ: এরপরেই আজ মঙ্গলবার সকালে স্কুলের সামনে প্রতিবাদে ভিড় জমান অভিভাবক থেকে স্থানীয় লোকজন। প্রশ্ন ওঠে, বোরখা পরে স্কুল কলেজে এলে সেটা যদি মেনে নেওয়া হয়, তবে তুলসীর মালায় সমস্যা কোথায়? কেন এই দ্বিচারিতা? অভিযুক্ত শিক্ষিকা এবং প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রতিবাদী জনতা।

 আরও পড়ুন : ‘মনরেগা’র জব কার্ড হোল্ডারদের জন্য বড় আপডেট, এখন থেকে বাধ্যতামূলক ‘এই’ কাজ, কড়া নির্দেশ প্রশাসনের

কী অভিযোগ স্কুলের বিরুদ্ধে: এখানেই শেষ নয়। ওই শিক্ষিকার (Keshtopur) বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, বহু ছাত্রীর হাতে লাল তাগা থাকলে তাও জোরপূর্বক খুলতে বাধ্য করেন তিনি। এমনকি ২০২২ সালে তিনি স্কুলে সরস্বতী পুজো বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ। পরে অভিভাবকদের চাপে ২০২৩ এ ফের তা চালু করা হয় বলে খবর। এছাড়াও স্কুলে পঠনপাঠনের অবনতি, নোংরা শ্রেণিকক্ষ ও শৌচাগার, মিড ডে মিলে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, স্কুল ফান্ডে গচ্ছিত অর্থের তছরুপের মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মে রাজারহাট গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারির কাছে হস্তক্ষেপ চেয়ে একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : ছোটাছুটি, লাইনে দাঁড়ানোর দরকার নেই, ঘরে বসেই মোবাইল নম্বর বদলান প্যান কার্ডে

এদিকে এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন দেশপ্রিয় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছেন তিনি। তবে ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষিকা কারোর মধ্যেই কখনও বিভেদ করেননি তিনি।