বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরিয়ানার এক ছোট্ট গ্রামের মেয়ে দিব্যা তনওয়ারের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) আজ অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর সাফল্য শুধুমাত্র ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প নয়, বরং এটি দারিদ্র্য, সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অসাধারণ উদাহরণ। জীবনের শুরুতেই বাবাকে হারিয়েছিলেন দিব্যা। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়েছিল তাঁর মায়ের কাঁধে। দিনে অন্যের জমিতে কাজ আর রাতে সেলাই করে কোনওমতে সংসার চালাতেন তিনি। সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই বড় হয়েছেন দিব্যা। অভাব ছিল, কিন্তু স্বপ্ন দেখার সাহস ছিল অটুট।
দিব্যা তনওয়ারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন দিব্যা। গ্রামের সরকারি স্কুল থেকেই তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা। পরবর্তীতে নিজের মেধার জোরে তিনি জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। সেখান থেকেই তাঁর শিক্ষার ভিত আরও শক্ত হয়। স্কুল জীবনেই এক অনুষ্ঠানে একজন মহকুমা শাসককে দেখে প্রশাসনিক অফিসার হওয়ার স্বপ্ন জন্ম নেয় তাঁর মনে। সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে জীবনের লক্ষ্য হয়ে ওঠে। উচ্চমাধ্যমিকের পর তিনি একটি সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। একই সঙ্গে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে এবং মায়ের আর্থিক বোঝা কিছুটা কমাতে ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের টিউশন পড়ানো শুরু করেন (Success Story)।
আরও পড়ুন:নেই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি, শেষ করেননি MBA-ও! চিনে নিন WhatsApp-এর নতুন বস কুণাল শাহকে
ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল অর্থাভাব। নামী কোনও কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার সামর্থ্য ছিল না। কিন্তু তাতে দমে যাননি দিব্যা। তিনি সম্পূর্ণভাবে সেলফ স্টাডির উপর ভরসা করেন। ইন্টারনেটে বিনামূল্যে পাওয়া পড়াশোনার উপকরণ, এনসিইআরটি বই এবং নিজের পরিশ্রমকেই অস্ত্র বানান। হিন্দি মাধ্যমকে বেছে নিয়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে নিয়মিত পড়াশোনা করতেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সাফল্যের জন্য দামি কোচিং নয়, প্রয়োজন লক্ষ্যপূরণের প্রতি নিষ্ঠা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রম। সেই বিশ্বাসই একদিন তাঁকে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষায় সাফল্যের মুখ দেখায়।
২০২১ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথম প্রচেষ্টাতেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় ৪৩৮তম স্থান অর্জন করেন দিব্যা। সেই সাফল্যের হাত ধরে তিনি ভারতীয় পুলিশ পরিষেবায় যোগ দেন এবং দেশের অন্যতম কনিষ্ঠ মহিলা আইপিএস অফিসার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মণিপুর ক্যাডারে তাঁর প্রশিক্ষণও শুরু হয়ে যায়। অনেকের কাছেই এই অর্জন ছিল জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য। কিন্তু দিব্যার লক্ষ্য ছিল আরও বড়। তিনি চেয়েছিলেন আইএএস অফিসার হতে। তাই কঠোর প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনের মাঝেও তিনি নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে থাকেন।

আরও পড়ুন: মহিলা যাত্রীদের জন্য বড় পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের! ১৭৫ টি স্টেশনে বিনামূল্যে মিলবে স্যানিটারি প্যাড
অবশেষে ২০২২ সালে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন বাস্তব হয়। দ্বিতীয়বার ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি সর্বভারতীয় স্তরে ১০৫তম স্থান অর্জন করেন এবং মাত্র ২২ বছর বয়সে আইএএস অফিসার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এক কৃষিশ্রমিক মায়ের মেয়ে থেকে দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক পরিষেবার সদস্য হয়ে ওঠার এই যাত্রা আজ বহু মানুষের কাছে প্রেরণার উৎস। দিব্যা তনওয়ার প্রমাণ করে দিয়েছেন, প্রতিকূলতা যতই কঠিন হোক, যদি লক্ষ্য স্পষ্ট থাকে এবং পরিশ্রমে কোনও খামতি না থাকে, তাহলে সাফল্য একদিন দরজায় কড়া নাড়বেই। তাঁর গল্প শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জনের কাহিনি নয়, বরং স্বপ্ন দেখা এবং তা বাস্তবায়নের সাহসের এক জীবন্ত উদাহরণ (Success Story)।

















