বাংলাহান্ট ডেস্ক: স্টার্টআপ দুনিয়ায় সাফল্যের গল্প (Success Story) মানেই যে শুরু থেকেই মোটা বিনিয়োগ বা বড় কোনও সংস্থার সমর্থন থাকবে, তা নয়। নীরজ সিংয়ের (Niraj Singh) পথচলা তারই উদাহরণ। ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) ডালটনগঞ্জে বেড়ে ওঠা এই উদ্যোক্তার প্রথম দু’টি স্টার্টআপই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তৃতীয়বার ব্যবসা শুরু করার সময় পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে নিজের বাড়ি বন্ধক রাখা, ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া, এমনকি গাড়ি বিক্রি করার মতো সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই ঝুঁকিই শেষ পর্যন্ত বদলে দেয় তাঁর ভাগ্য। ২০১৫ সালে সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোহিত গুপ্ত এবং রামানশু মহৌরের সঙ্গে তিনি শুরু করেন ব্যবহৃত গাড়ির প্ল্যাটফর্ম স্পিনি। আজ সেই সংস্থা ইউনিকর্ন এবং এবার শেয়ার বাজারে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নীরজ সিংয়ের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
নীরজের উদ্যোক্তা হওয়ার পথ অবশ্য স্পিনির হাত ধরে শুরু হয়নি। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন তিনি। ২০০২ সালে রুরকিতে আর্কিটেকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়ার পর এক বছর বাদে ফের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা দেন এবং আইআইটি দিল্লিতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পান। এরপর ব্যবসায় নামার সিদ্ধান্ত নিলেও পরপর ধাক্কা আসে। তাঁর প্রথম সংস্থা Locus Education ২০১১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। পরে Techmunky নামে কনটেন্ট অ্যাগ্রিগেশন ও ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন, কিন্তু সেটিও ২০১৪ সালের শেষে টেকেনি। ফলে তৃতীয়বার নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা করার সময় তাঁর আগের ব্যর্থতার রেকর্ডই অনেকের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল (Success Story)।
আরও পড়ুন: ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে হার! মাত্র ৫৬ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে বলিউড অভিনেতা মুশতাক খান
২০১৫ সালে নীরজ যখন ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে নতুন সংস্থা তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তখন এই ক্ষেত্রে Cars24, CarDekho, Droom-এর মতো একাধিক সংস্থা ইতিমধ্যেই সক্রিয়। ফলে কয়েকজন বিনিয়োগকারী তাঁর পরিকল্পনা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান ছিলেন। এক বিনিয়োগকারীর মন্তব্য ছিল, এমন পরিস্থিতিতে তিনি যেন ‘আত্মহত্যা’র পথ বেছে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, নীরজের সামনে তখন শুধু ব্যবসায়িক ঝুঁকিই ছিল না, ছিল ব্যক্তিগত আর্থিক চাপও। নিজের ব্যবসা চালিয়ে যেতে বাড়ি বন্ধক রাখা, ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া এবং গাড়ি বিক্রি করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তাঁকে। তবুও পিছিয়ে যাননি। জুন ২০১৫-তে স্পিনি শুরু করেন তিনি।
শুরুতে স্পিনির মডেল ছিল মূলত ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করা। কিন্তু খুব দ্রুত নীরজ বুঝতে পারেন, ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে শুধু ক্রেতা-বিক্রেতাকে এক জায়গায় আনা যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল বিশ্বাস। গাড়ির প্রকৃত অবস্থা, কাগজপত্র, দাম এবং কেনার পর পরিষেবা—সবকিছু নিয়েই ক্রেতাদের মনে প্রশ্ন থাকে। সেই জায়গা থেকেই ২০১৭ সালের মার্চে স্পিনি ব্যবসার মডেল বদলে ফেলে। সংস্থা নিজেই ব্যবহৃত গাড়ি কিনে তা পরীক্ষা, সংস্কার ও সার্টিফাই করে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতে শুরু করে। গাড়ি পরিদর্শন থেকে ডকুমেন্টেশন, অর্থায়ন এবং ডেলিভারি—পুরো অভিজ্ঞতার বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে সংস্থাটি। এই মডেলই ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করে।

আরও পড়ুন: কমেছে দূরত্ব! বাঁচছে সময়, সেতু-টানেল-এক্সপ্রেসওয়ে কীভাবে বদলেছে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা?
এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০২১ সালের শেষ দিকে Series E ফান্ডিংয়ের পর স্পিনি ইউনিকর্নের মর্যাদা পায়। ক্রিকেট তারকা শচীন তেন্ডুলকরও ২০২১ সালে সংস্থাটিতে কৌশলগত বিনিয়োগকারী ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে যুক্ত হন। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, স্পিনি এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৮০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে এবং ২০২৬ সালে সংস্থাটির মূল্যায়ন প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার সেই সংস্থাই IPO-র পথে। Valuedrive Technologies-এর মাধ্যমে স্পিনি SEBI-র কাছে গোপনীয় পথে IPO-র খসড়া নথি জমা দিয়েছে। প্রস্তাবিত ইস্যু থেকে প্রায় ২,৫০০-৩,০০০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নতুন শেয়ার এবং পুরনো বিনিয়োগকারীদের OFS—দুই অংশই থাকতে পারে। ২০২৭ সালে তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত সময়সূচি নেই (Success Story)।













