বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা অশান্তি মামলাকে ঘিরে আবারও আইনি লড়াই সামনে এল। কেস ডায়েরি এনআইএ-কে দেওয়ার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে শীর্ষ আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করল না। বরং বিচারপতিরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে তা যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত বলেই মনে হয়েছে তাদের।
কলকাতা হাই কোর্টকে নির্ধারিত দিনে মামলার শুনানি করার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)
শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি প্রশ্ন তোলেন, কেস ডায়েরি না পেলে এনআইএ কীভাবে নিরপেক্ষভাবে তদন্তের রিপোর্ট দেবে? একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, তাদের কাছে মনে হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। তবে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে সুপ্রিম কোর্ট(Supreme Court) কলকাতা হাই কোর্টকে নির্ধারিত দিনে মামলার শুনানি করার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাই কোর্ট বেলডাঙা থানাকে নির্দেশ দিয়েছিল কেস ডায়েরি এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে। বেলডাঙায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পরে এনআইএ-র হাতে যায়। কিন্তু শুরু থেকেই এনআইএ অভিযোগ তুলেছিল, এই মামলায় রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। তার মধ্যে একটি মামলা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই মামলার শুনানিতে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, কেন্দ্র চাইলে এনআইএ দিয়ে তদন্ত করাতে পারে। পাশাপাশি রাজ্যকে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রের কাছে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
পরে হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যায় রাজ্য সরকার। তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, তারা এনআইএ-র তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে না। তদন্তে নেমে এনআইএ আধিকারিকরা মনে করছেন, বেলডাঙার ঘটনায় শুধু স্থানীয় আবেগ নয়, পরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে উসকানি ছড়িয়ে অশান্তি ছড়ানো হয়েছিল। সেই সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের জাল কতটা বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুনঃ রাতারাতি প্রশাসনে বড় রদবদল! DGP-CP বদলে দিল নির্বাচন কমিশন
এই তদন্তের মধ্যেই এনআইএ অভিযোগ করেছে, রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা তারা পাচ্ছে না। এমনকি অভিযুক্তদের আদালতে তোলার সময় পুলিশি এসকর্ট না পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফলে পুরো ঘটনার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেই দিকেই নজর রয়েছে (Supreme Court)।












