বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনে বড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। মধ্যরাতের পর মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব বদলের নোটিফিকেশন জারি হওয়ার পরই তার ইঙ্গিত মিলেছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতায় রাজ্যের ডিজিপি ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদেও পরিবর্তনের (DG-CP Change) সিদ্ধান্ত নিল কমিশন।
প্রশাসনিক স্তরে বড় রদবদল (DG-CP Change)
নির্বাচন কমিশনের তরফে মুখ্যসচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠিতে জানানো হয়েছে, রাজ্য প্রশাসনের কাজকর্ম নিয়ে একটি রিভিউ করা হয়েছিল। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এই পরিবর্তনের (DG-CP Change) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের তরফে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান ডিজি পীযুস পাণ্ডে আর এই পদে থাকছেন না। তাঁর জায়গায় নতুন ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে এই পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুধু রাজ্যের পুলিশ প্রধান পদেই নয়, কলকাতা পুলিশের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সুপ্রতীপ সরকার আর কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে থাকছেন না। তাঁর পরিবর্তে নতুন সিপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজয় নন্দকে। এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা দপ্তরেও পরিবর্তন করা হয়েছে। এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন অজয় রানাডে। অর্থাৎ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের ক্ষেত্রেও নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি কারা দপ্তরেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ডিজি (কারা) পদে নিয়োগ করা হয়েছে এন. রমেশ বাবুকে। তিনি ১৯৯১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার। নতুন সিপি অজয় নন্দকে একজন দক্ষ পুলিশ কর্তা হিসেবেই প্রশাসনিক মহলে দেখা হয়। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন এবং মাওবাদী দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এর আগে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এবার তাঁকেই কলকাতা পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন।
প্রশাসনিক মহলে আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, অতীতেও একবার সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে ডিজি করা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছিল। সেই সময় সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে ডিজি করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, পদাধিকার ও ব্যাচের জ্যেষ্ঠতা নিয়ে জটিলতার কারণেই তখন সেই পরিবর্তন করতে হয়েছিল। এইবারও সেই ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে প্রশাসনের অন্দরে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, সিদ্ধিনাথ গুপ্তার অবসর নেওয়ার কথা ৩০ এপ্রিল। তবে নির্বাচন কমিশন চাইলে তিন মাসের জন্য তাঁর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এবারের সিদ্ধান্তে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সাধারণত ভোটের সময় কারা প্রশাসনে পরিবর্তন আনার নজির খুব একটা নেই। কিন্তু এবার সেই ক্ষেত্রেও পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত কয়েকটি নির্বাচনে অভিযোগ উঠেছিল ভোটের সময় জেল থেকে অনেক অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। রাজ্যে এসে কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছেও বিষয়টি তোলা হয়েছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও সেই অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তার পরেই কারা দপ্তরের ডিজি পদেও পরিবর্তন (DG-CP Change) আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ আপনার বকেয়া DA কত? নতুন অনলাইন ক্যালকুলেটরে মিলবে সহজ হিসাব, বিস্তারিত জানুন…
উল্লেখ্য, রবিবার গভীর রাতে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব পদেও বড় পরিবর্তন আনা হয়। ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে নতুন মুখ্যসচিব করা হয়েছে। আর ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস সংঘমিত্রা ঘোষকে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নন্দিনী চক্রবর্তী ও জগদীশ প্রসাদ মীনাকে শুধু পদ থেকে সরানোই নয়, কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও দায়িত্বেও রাখা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে (DG-CP Change)।












