বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ফের পিছিয়ে গেল আই-প্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। ED-র আবেদনের উপর শুনানি আগামী ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখল দেশের শীর্ষ আদালত। কয়লা চুরি কেলেঙ্কারি তদন্তে আই-প্যাক অফিসে তল্লাশি ঘিরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ED। সেই মামলাতেই এবার এল নতুন মোড়।
মঙ্গলবার শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে রিজয়ন্ডার দাখিলের আবেদন জানান। এরপর বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ মামলার শুনানি ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখে। এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি শীর্ষ আদালত (Supreme Court) পর্যবেক্ষণে বলেছিল, ED-র তদন্তে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বাধা দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আদালত একই সঙ্গে এ কথাও জানায়, কোনও রাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কি কোনও গুরুতর অপরাধে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না, তা বিবেচনা করে দেখবে তারা।
কী নিয়ে মামলা সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)?
ঘটনার সূত্রপাত ৮ জানুয়ারি। সেদিন তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তর এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় ED। এর জেরে ED আধিকারিকদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করে রাজ্য সরকার। পরে সেই FIR স্থগিত করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশকে তল্লাশি অভিযানের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশও দেয় আদালত।
আই-প্যাক দপ্তরে অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানায় ইডি। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, তৎকালীন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে নোটিশ জারি করেছে।
ED-র অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে প্রবেশ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ, নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে নেন। তদন্তে বাধা সৃষ্টি ও হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইডি আরও দাবি করেছে, তল্লাশির জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং নথি অপসারণের ঘটনা তদন্তকারী আধিকারিকদের উপর ভয়ের প্রভাব ফেলেছে এবং সংস্থার স্বাধীনভাবে আইনগত কাজ করার ক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

আরও পড়ুনঃ উচ্চশিক্ষিতা মা থাকতেও মাছ ব্যবসায়ী বাবার হাতে সন্তানকে তুলে দিল হাই কোর্ট, নজরবিহীন রায় আদালতের
এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে আদালতে হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার অনুমতি চেয়েছিল ED। আদালতের (Supreme Court) নির্দেশ অনুযায়ী এদিন সেই রিজয়ন্ডারও দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।












