বাংলা হান্ট ডেস্ক: ট্র্যাফিক আইন (Traffic Rules) ভেঙে ই-চালান কাটলেও বহু ক্ষেত্রে সেই জরিমানা আর জমা পড়ে না। এই নিয়ে এবার অভিনব পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) ফলে নিয়ম ভাঙার ঘটনা নথিভুক্ত হলেও সরকারের হাতে পৌঁছয় না জরিমানার টাকা। এই সমস্যার সমাধানে এবার কিছুটা অভিনব পদ্ধতির কথা ভাবতে বলল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার ই-চালান (E-Challan) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ বকেয়া ট্র্যাফিক জরিমানা আদায়ের জন্য একাধিক সম্ভাব্য ব্যবস্থার কথা আলোচনা করে। তার মধ্যে অন্যতম হল, দীর্ঘদিনের বকেয়া ট্র্যাফিক চালানের টাকা অন্য কোনও সরকারি বকেয়ার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। উদাহরণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে এই জরিমানা যোগ করার কথাও উঠে আসে।
ট্রাফিক চালান না দিলে এবার বিদ্যুৎ বিলে জুড়ে দেওয়ার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court of India)
শুনানিতে আদালতকে (Supreme Court of India) জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ই-চালান বাবদ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যেই আদায় করা হয়েছে। অর্থাৎ এখনও প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের অপেক্ষায়। বিপুল সংখ্যক ই-চালান জারি হওয়ার পরেও কেন সেই জরিমানার পুরো টাকা উদ্ধার করা যাচ্ছে না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বিচারপতি পারদিওয়ালা এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট করেন, পুলিশ হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ চালান কাটতেই পারে, কিন্তু শুধু চালান জারি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বাস্তবে জরিমানার টাকা কীভাবে আদায় করা যায়, তার কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করাই মূল বিষয়।
আরও পড়ুন: ইউটিউব দেখে সেলাই শিখে লকডাউনে শুরু ব্যবসা! আজ ৯৬,০০০ গ্রাহক, চমকে দেবে শিবাংয়ের কাহিনি
এই পরিস্থিতিতেই বকেয়া ট্র্যাফিক জরিমানা বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলেন বিচারপতি পারদিওয়ালা। তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেমন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তেমনই কোনও কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্র্যাফিক জরিমানাও আদায় নিশ্চিত করা যায় কি না, তা দেখা। তবে এই মুহূর্তে এটিকে কোনও নতুন আইন বা দেশজুড়ে কার্যকর নির্দেশ হিসেবে দেখা যাবে না। আদালতে এটি একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে উঠে এসেছে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে গেলে আইনগত ও প্রশাসনিক নানা প্রশ্নের সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে যে ব্যক্তি ট্র্যাফিক চালান পেয়েছেন এবং যে ব্যক্তির নামে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, তাঁদের পরিচয় এক কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
শুধু বিদ্যুৎ বিল নয়, বকেয়া ই-চালান আদায়ে আরও কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বকেয়া চালান থাকা গাড়িকে পারিবহন পোর্টালে চিহ্নিত বা ব্ল্যাকলিস্ট করা, গাড়ির মালিকানা বদলে বাধা দেওয়া, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের নবীকরণ আটকে দেওয়া এবং ফিটনেস বা পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল বা PUC সার্টিফিকেট সংক্রান্ত পরিষেবায় বিধিনিষেধ আনার মতো ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে। এমনকী প্রয়োজন হলে বকেয়া চালান থাকা গাড়ি রাস্তায় ধরতে আচমকা তল্লাশি চালানো এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আদালত আলোচনা করেছে। লক্ষ্য একটাই—চালান কাটা এবং জরিমানা আদায়ের মধ্যে যে বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে, তা কমানো।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার তেলে ভাটা, ইরাক-সৌদিতে ভরসা! সেপ্টেম্বরে বদলে গেল ভারতের তেল আমদানির ছবি
বকেয়া জরিমানা আদায়ের এই আলোচনা আসলে দেশের ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনার একটি বড় সমস্যাকেই সামনে এনেছে। প্রযুক্তির সাহায্যে এখন খুব দ্রুত নিয়মভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত করে ই-চালান পাঠানো সম্ভব হলেও, সেই জরিমানা আদায় করা এখনও অনেক বেশি জটিল। তাই সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) কর্তৃপক্ষকে বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে কার্যকর সমাধান খুঁজতে বলেছে। বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে চালান যুক্ত করার ভাবনা কার্যকর হলে তা নিঃসন্দেহে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু তার আগে আইন, তথ্যের মিল, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বাস্তব প্রয়োগ—সব দিকই খতিয়ে দেখতে হবে। আপাতত তাই চালান না দিলেই বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে যাবে—এমন কোনও নিয়ম চালু হয়নি; বরং বকেয়া জরিমানা আদায়ের সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিষয়টি আদালতের আলোচনায় এসেছে।













