বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ‘সুপ্রিম’ নির্দেশে রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (SSC Recruitment Scam) কাণ্ডের মাশুল গুনতে হচ্ছে হাজার-হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের। গতকাল সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে এই মুহূর্তে চরম অনিশ্চিতার মুখে ২৬ হাজার ‘চাকরিহারা’। গতকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ঘিরে তোলপাড় সারা দেশ। এরই মাঝে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবিরেশ ভট্টাচার্যের জামিনের মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল আরও একবার।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Scam) আরও বিপাকে SSC-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান
আজ শুক্রবার বিচারপতি পঙ্কজ মিথল এবং বিচারপতি এসভিএন ভাট্টির বেঞ্চে এই মামলা উঠেছিল। তবে এদিন জাস্টিস ভাট্টির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে এখনই জামিন পাবেন না সুবিরেশ। আদালত সূত্রে খবর আরও তিন সপ্তাহ পর ২৯ এপ্রিল ওই মামলার শুনানি রয়েছে। প্রসঙ্গত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই নিয়োগ মামলার (SSC Recruitment Scam) তদন্তে কেন্দ্রীয় এজেন্সি সিবিআই-এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সুবীরেশ।
নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে (SSC Recruitment Scam) গ্রেপ্তারির সময় তিনি ছিলেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সিবিআইয়ের দাবি ছিল,সুবীরেশই এসএসসির চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়েই রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছিল। একইসাথে অভিযোগ, করা হয় প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে কারচুপিতেও তার প্রধান ভূমিকা ছিল।
আরও পড়ুন: একই স্কুলে চাকরি গিয়েছে ৩৬ জনের! চোখ মুছে স্কুল ছাড়লেন শিক্ষক
প্রসঙ্গত এই প্রথম নয় এর আগেও সুবীরেশ জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তার জামিনের বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তার প্রভাবশালী হওয়ার যুক্তি খাঁড়া করেছিল। তাদের দাবি ছিল এসএসসির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরেও নাকি যথেষ্ট প্রভাব ছিল সুবীরেশের। এমনকি,গ্রেফতারির সময় তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দার্জিলিং হিলস বিশ্ববিদ্যালয়েরও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ছিলেন। এখানেই শেষ নয়, একসাথে তিনি নাকি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছিলেন।
সুবীরেশের জামিনের আবেদন জানিয়ে গত শুনানিতে তার আইনজীবী আদালতে বলেছিলেন, অভিযুক্ত দু’বছর পাঁচ মাস জেলে রয়েছেন। তাই মক্কেলের জামিন দেওয়ার সাওয়াল করে আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন এই মামলায় অন্য অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে গিয়েছেন। এরপর সুবীরেশের জামিনের আবেদনের ভিত্তিতে সিবিআইয়ের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সেই মামলারই শুনানি ছিল। কিন্তু এদিন শুনানি আরও পিছিয়ে যাওয়ায় আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে।