SSC নিয়োগে বয়স ছাড় নিয়ে টানাপোড়েন, হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় বয়সের ছাড় নিয়ে দেওয়া কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

কী বলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)?

এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যাঁরা যোগ্য ছিলেন কিন্তু চাকরি পাননি, তাঁরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বয়সের ছাড় পাবেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, শুধুমাত্র যোগ্য হয়েও পরীক্ষায় নির্বাচিত না হওয়া প্রার্থীদের নতুন করে সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা পক্ষপাতী নয়। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ প্যানেল বাতিলের প্রেক্ষাপট

গত বছরের এপ্রিল মাসে ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ এসএসসি প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। সেই সময় শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, যাঁরা দুর্নীতিতে যুক্ত নন বা দাগী নন এবং কর্মরত অবস্থায় চাকরি হারিয়েছেন, শুধুমাত্র তাঁরাই বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় পেয়ে নতুন পরীক্ষায় বসতে পারবেন।

এই রায়ের পরই বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত সূত্রে জানা যায়, তাঁদের অধিকাংশই ২০১৬ সালের প্যানেলের ওয়েটিং লিস্টে ছিলেন। অর্থাৎ তাঁরা যোগ্য হলেও নম্বরের কারণে ইন্টারভিউয়ের ডাক পাননি। নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়েই তাঁরা মামলা করেছিলেন।

এই মামলার শুনানি হয়েছিল বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে। সেই শুনানির ভিত্তিতে গত ১২ ডিসেম্বর হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, ওই প্রার্থীদের বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে এবং নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তাঁদের সুযোগ দিতে হবে। সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)।

কারা পাবেন বয়সের ছাড়?

সোমবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়ে দেয়, শুধুমাত্র যাঁরা কর্মরত অবস্থায় চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই বয়সের ছাড় প্রযোজ্য থাকবে। ওয়েটিং লিস্টে থাকা বা শুধুমাত্র যোগ্য হয়েও নির্বাচিত না হওয়া প্রার্থীদের জন্য এই ছাড় কার্যকর হবে না। মামলার সমস্ত পক্ষকে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। পরবর্তী শুনানি হবে দু’সপ্তাহ পরে।

রাজ্যের যুক্তি কী?

এই মামলায় রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, বয়সের ছাড়ের ভিত্তিতে যদি মাত্র দু’জন প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে নতুন করে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার চাকরিপ্রার্থীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে হবে। এর ফলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়াই অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

Supreme Court ruling by a single like can break up a marriage

আরও পড়ুনঃ বেলডাঙার অশান্তি পৌঁছল হাই কোর্টে, কেন্দ্রীয় বাহিনী কি নামছে? কী বললেন বিচারপতি?

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দিয়েছিলেন, এই প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে ডাকতেই হবে। সেই নির্দেশেই সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্থগিতাদেশ দিয়েছে। তাঁর কথায়, “এই নিয়োগপ্রক্রিয়া ছিল যাঁরা চাকরি করতেন তাঁদের জন্য। ওই দুজন সেই ক্যাটাগরিতে পড়েন না।”