বাংলা হান্ট ডেস্কঃ হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেটার ডেটা শেয়ারিং নীতি নিয়ে সম্প্রতি কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। মঙ্গলবার হোয়াটসঅ্যাপ এবং তার মূল সংস্থা মেটার ডেটা শেয়ারিং নীতি নিয়ে শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ব্যবসার স্বার্থে বা প্রযুক্তিগত সুবিধার অজুহাতে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের উপর হস্তক্ষেপ করা যাবে না। নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার সবার আগে।
‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা আসলে ব্যক্তিগত তথ্য হাতানোর একটি ভদ্র উপায় বলে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)
শুনানির সময় বিচারপতিরা কড়া ভাষায় বলেন, “ডেটা শেয়ারিংয়ের নামে দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে খেলতে পারেন না।” মেটার পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ব্যবহারকারীদের সম্মতি নিয়েই তথ্য শেয়ার করা হয় এবং চাইলে ‘অপ্ট-আউট’-এর সুযোগও থাকে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) এই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি। আদালত স্পষ্ট প্রশ্ন তোলে যদি ব্যবহারকারীকে কার্যত বাধ্য হয়েই শর্ত মেনে নিতে হয়, তাহলে সেই সম্মতির মূল্য কোথায়? বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, এই ধরনের ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা আসলে ব্যক্তিগত তথ্য হাতানোর একটি ভদ্র উপায় ছাড়া আর কিছু নয়।
মূলত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটার পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হয়েছিল। সেখানে তারা প্রতিযোগিতা কমিশন অব ইন্ডিয়া (CCI)-এর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে। সিসিআই হোয়াটসঅ্যাপের নতুন গোপনীয়তা নীতিকে বেআইনি বলে উল্লেখ করে জরিমানা করেছিল। কমিশনের বক্তব্য ছিল, হোয়াটসঅ্যাপ এমন নীতি এনেছে যেখানে ব্যবহারকারীদের কাছে শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া কার্যত অন্য কোনও বিকল্পই নেই।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। আদালতের মতে, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির গোপনীয়তা সংক্রান্ত শর্তাবলি এত জটিল ভাষায় লেখা হয় যে সাধারণ মানুষ সেগুলি ঠিকমতো বুঝতেই পারেন না। ফলে ব্যবহারকারী সত্যিই সচেতনভাবে সম্মতি দিচ্ছেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
ভারতে যখন এই আইনি লড়াই চলছে, তখন আমেরিকাতেও মেটা নতুন সমস্যায় পড়েছে। একদল আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্ত করেছে এবং ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ নিয়ে ভুল তথ্য দিয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোর একটি আদালতে দায়ের হওয়া এই মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা আদৌ কতটা সুরক্ষিত এবং সংস্থার কাছে সেগুলি সত্যিই অপ্রাপ্য কি না।
মেটা অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থার দাবি, এই মামলা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। যদিও মামলার নথিতে কয়েক জন তথাকথিত ‘হুইসেলব্লোয়ার’-এর উল্লেখ রয়েছে, তবে তাঁদের পরিচয় বা ভূমিকা এখনও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুনঃ কী ছিল সবুজ ফাইলে? সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় সবটা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ডেটা ব্যবহারের অধিকার এবং সাধারণ মানুষের গোপনীয়তার অধিকার এই দুইয়ের ভারসাম্য নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে। এই মামলার গুরুত্ব বুঝে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-কেও মামলার পক্ষভুক্ত করেছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।












