বাংলা হান্ট ডেস্ক : দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের বনদফতরের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। জঙ্গল পাহারা থেকে শুরু করে বন্যপ্রাণ রক্ষা—মাঠে থেকে যে কর্মীরা প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান, তাঁদের বেতন ও ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। অক্টোবর থেকেই সংশোধিত কাঠামো কার্যকর হবে। ফলে পুজোর মরশুমে বাড়তি বেতন-ভাতা হাতে পাবেন বনদফতরের একাধিক স্তরের কর্মীরা।
বনদপ্তরের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেশি সুবিধা পাবেন রেঞ্জার, বিট অফিসার এবং ফরেস্ট গার্ডরা। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৫০০ জন রেঞ্জার কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ৫ হাজার টাকা করে বাড়ছে। প্রায় একই সংখ্যক বিট অফিসারের বেতনেও যোগ হচ্ছে মাসে আরও ৫ হাজার টাকা।
ফরেস্ট গার্ডদের ক্ষেত্রেও একই হারে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বনাঞ্চলের নিরাপত্তা ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের কাজে যুক্ত এই তিন শ্রেণির কর্মীরাই সরাসরি বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন। বর্তমানে প্রায় ১,৫০০ জন বন সহায়ক প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্তে সেই ভাতা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১২ হাজার টাকা।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর মরশুম থেকেই নতুন বেতন ও ভাতার হার কার্যকর করা হবে। দীর্ঘদিন বনাঞ্চলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করা কর্মীদের দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যেই চলতি বর্ষায় রাজ্যজুড়ে ১০ কোটি চারাগাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান তিনি। পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের জায়গায় উঠে আসে সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী অঞ্চলও। সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, গোসাবা, বাসন্তী থেকে টাকি ও সাগর—বিভিন্ন এলাকায় বন ও সেচ দফতরের জমি দখল করে বেআইনি ইটভাটা তৈরির অভিযোগ নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : সময়ের মধ্যে করেননি ডিজিটাল সেলফ এনুমারেশন, ডেডলাইন মিস করলে কী হবে পরিণতি?
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের ঘটনাও উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা দুর্বল করে দিচ্ছে। এদিনের ঘোষণায় বনদফতরের কর্মীদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের কাজের সঙ্গে যুক্ত পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্বকেও সামনে আনা হয়েছে ।













