বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যার জল নামলেও উদ্বেগ কাটেনি বিস্তীর্ণ এলাকায়। কোথাও বাড়িতে জল ঢুকেছে, কোথাও আবার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার নিজেই আকাশপথে প্লাবিত অঞ্চল ঘুরে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সবংয়ে পৌঁছে হেলিকপ্টারে করে সবং, ভগবানপুর ও পটাশপুরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। সফর শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সাহায্যের বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
জানা যাচ্ছে, সবং এলাকায় বন্যার জেরে প্রায় ৩২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলেও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হয়েছে।
এদিনের পরিদর্শনে মূল নজর ছিল কেলেঘাই নদী ও তার আশপাশের প্লাবিত এলাকাগুলির দিকে। নদীতে জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছিল বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়। তবে বর্তমানে জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। হেলিকপ্টার থেকে তিনি সবং, ভগবানপুর ও পটাশপুরের জলমগ্ন এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
স্থানীয় বিধায়কদের কাছ থেকে দুর্গত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যার মধ্যে সাপের কামড়ে ১০ জন আক্রান্ত হওয়ার খবরও উঠে আসে। প্রশাসনের তৎপরতায় তাঁদের প্রত্যেককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়।
জলবন্দি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় জল পৌঁছনোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের নজরদারি জারি রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিন স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথাবার্তার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। দীর্ঘদিন পর কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে এলাকায় দেখে স্থানীয়রা কী বলেছেন, সেই কথাও জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “এলাকার মানুষজন বলছিলেন, ১৯৮৬ সালে জ্যোতি বসু এখানে এসেছিলেন। তারপরে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এখানে এল। কী করা যাবে, আগের মুখ্যমন্ত্রীরা গ্রামের মানুষকে মানুষ বলে মনে করতেন না। আর আমার সঙ্গে গ্রামের মানুষের নাড়ির টান। গ্রামেই আমার শুরু, গ্রামেই শেষ।”

আরও পড়ুন : ৫ লাখ অবধি বিনামূল্যে চিকিৎসা! মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আবেদন পদ্ধতি জানুন
উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যা মোকাবিলার কাজ যাতে আরও সমন্বিতভাবে চলে, তার জন্য রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজেশ মাহাতোকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও সময় লাগতে পারে। জলস্তর, রাস্তা-ঘাটের অবস্থা এবং দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছনোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।














