ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার, ১ বছর আটক! বাংলায় আসছে নতুন ‘গুন্ডা দমন’ আইন

Published on:

Published on:

Suvendu Adhikari Govt Plans Tough Anti-Social Law
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, জমি দখল এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজ বন্ধ করতে নতুন আইন (Anti-Social Law) আনতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। এই আইনে শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে নয়, তাদের আশ্রয় দেওয়া বা পালাতে সাহায্য করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, রাজ্যে সংগঠিত অপরাধ রুখতেই এই আইন আনা হচ্ছে।

সোমবার বিধানসভায় নতুন আইন (Anti-Social Law) পেশ করবেন শুভেন্দু অধিকারী

সোমবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল’ (Anti-Social Law)। বিলটি পাশ হলে সমাজবিরোধী এবং সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা চলে আসবে। নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, কোনও চিহ্নিত অপরাধীকে জেনেশুনে বাড়িতে আশ্রয় দিলে বা পুলিশ থেকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করলে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে। দোষ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা হতে পারে।

কারা পড়বেন এই আইনের আওতায়?

বিলে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি একা বা কোনও গ্যাং, সিন্ডিকেট বা দলের সদস্য হিসেবে নিয়মিত অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁকে ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। অস্ত্র আইন, মাদক পাচার, বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধ, মানব পাচার কিংবা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার গুরুতর ধারায় অপরাধ করলে এই আইনের (Anti-Social Law) আওতায় আনা যেতে পারে। এছাড়া তোলাবাজি, জমি দখল, ব্যবসায় বাধা দেওয়া, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ছড়ানো, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, বেআইনি বালি-পাথর ব্যবসা এবং বনজ সম্পদ নষ্ট করার মতো কাজও এই আইনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে

প্রস্তাবিত আইন (Anti-Social Law) অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে। পাশাপাশি এই অপরাধগুলি নন-বেলেবল হওয়ায় সহজে জামিন পাওয়াও কঠিন হবে। শুধু তাই নয়, কোনও ব্যক্তি ভবিষ্যতে সমাজবিরোধী কাজে জড়াতে পারেন বলে প্রশাসনের সন্দেহ হলে তাঁকে আগাম আটক রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকার, পুলিশ কমিশনার, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকরা প্রয়োজন মনে করলে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কাউকে আটক রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন।

তবে যাতে এই ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়, তার জন্য একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠন করা হবে। হাইকোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে থাকা এই বোর্ড আটকাদেশ পর্যালোচনা করবে। যথেষ্ট কারণ না থাকলে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

নতুন বিল অনুযায়ী, সমাজবিরোধী চক্রের খোঁজে পুলিশ সন্দেহভাজন জায়গায় তল্লাশি চালাতে পারবে। প্রয়োজনে রাস্তায় গাড়ি বা ব্যক্তিকেও থামিয়ে তল্লাশি করা যাবে। এছাড়া অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত বা বেআইনি উপায়ে অর্জিত বলে সন্দেহ হওয়া টাকা, নথি এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও প্রশাসনকে দেওয়া হচ্ছে।

Suvendu Adhikari make explosive allegations against Firhad in Taratala case

আরও পড়ুনঃ পেট্রল-ডিজেল নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্যে, সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিল শুভেন্দু সরকার

সরকারি সূত্রের দাবি, বর্তমান আইনে অনেক সময় সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণেই আরও কড়া আইন (Anti-Social Law) আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের আশঙ্কা, প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা গেলে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। যদিও সরকারের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।