বাংলা হান্ট ডেস্ক : দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাঙালির খাওয়াদাওয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। উৎসবের দিনগুলিতে পাতে মাছ-মাংস থাকা অনেকের কাছেই রীতিমতো আনন্দের বিষয়। কিন্তু এ বছর সেই খাবার নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জানা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্ক নিয়ে স্পষ্ট মতামত জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
আমিষ বিতর্কে কী জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ?
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পুজোমণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি বা খাওয়া নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়েছে।সূত্রের খবর, সরকারি স্তরে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের বার্তা ঘুরছে। কোথাও দাবি করা হচ্ছে, মণ্ডপের কাছাকাছি মাছ-মাংস বিক্রি করা যাবে না। আবার কিছু পোস্টে পুজোর নির্দিষ্ট দিনে কোন ধরনের খাবার খাওয়া যাবে, সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকার কথাও বলা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
নবান্নের সূত্রের দাবি, মানুষের খাবারের পছন্দ নিয়ে রাজ্য সরকার কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাইছে না। দুর্গাপুজোর সময়ে কে কী খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে সাত্ত্বিক রীতিনীতি মেনে পুজো আয়োজন নিয়ে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হলেও তার ভিত্তিতে রাজ্য কোনও খাদ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করছে না।
উল্লেখ্য, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুজোর আয়োজন নিয়ে একাধিক বিষয় সেখানে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকেই আমিষ খাবার সংক্রান্ত যাবতীয় জল্পনায় ইতি টেনে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হতে পারে বলে খবর।
এদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নাম করে আমিষ খাবার নিয়ে যে নির্দেশিকার কথা ছড়িয়েছে, তা নিয়েও মুখ খুলেছে সংগঠনটি। পূর্বাঞ্চলীয় শাখার সম্পাদক অমিয় সরকারের কথায়, গত দুই-তিন দিন ধরে সংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ার একটি অংশ ২৬ আগস্ট দুর্গাপুজোর আয়োজকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি জানান, “ওই বৈঠকে শুধুমাত্র সাত্ত্বিক রীতিনীতি মেনে পুজো আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। সেখানে খাবার সংক্রান্ত কোনও আলোচনা করা হয়নি।”

আরও পড়ুন : এখনও একবারও মেলেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা! সেপ্টেম্বরে পাবেন? আবেদনকারীদের জন্য বড় খবর
অমিয় সরকার আরও বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে, আমরা আমিষ নিয়ে কোনও নির্দেশিকা জারি করিনি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কোনও ফতোয়া জারি করে না।” ৭ই সেপ্টেম্বর বৈঠকের পরই পুজোর সময়ে খাবার নিয়ে যাবতীয় জল্পনার অবসান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।













