বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সম্প্রতি বাংলার রাজনীতিতে বড় পালা বদল ঘটেছে। তৃণমূল সরকারের পতন হয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এই গুরুত্বপূর্ণ সময় বাংলায় ফেরার প্রশ্নে আবারও সরব হলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনার দাবি উঠছে সামাজিক মাধ্যমে। এদিকে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন মধ্যেই সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলা হান্টের প্রতিনিধি শোভন চক্রবর্তীকে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তসলিমা নাসরিন। তিনি জানালেন, সুযোগ পেলে তিনি অবশ্যই বাংলায় ফিরতে চান।
বাংলায় ফেরার ইচ্ছা তসলিমার (Taslima Nasrin)
বাংলা হান্টের সঙ্গে কথোপকথনে তসলিমা নাসরিনকে (Taslima Nasrin) প্রশ্ন করা হয়, সামাজিক মাধ্যমে বারবার দাবি উঠছে তাঁকে সম্মানের সঙ্গে বাংলায় ফিরিয়ে আনার। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনার মধ্যে এই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি সোজাসাপ্টা বলেন “ফিরতে দিলে নিশ্চয়ই ফিরব।” শুধু তাই নয়, অনেকে আবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখতে চাওয়ার কথাও বলছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এতটা আশা তিনি করেননি। তবে যদি তাঁকে থাকতে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি থাকতে চান। আর যদি তা সম্ভব না হয়, অন্তত বইমেলা বা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যেন যেতে পারি”, এই আশা প্রকাশ করেন তসলিমা নাসরিন।
তসলিমা (Taslima Nasrin) জানান, ভারতের অন্য রাজ্যে তিনি নিয়মিত যান, আমন্ত্রণ পান। খুব শিগগিরই তিনি কেরালায় যাওয়ার কথাও বলেন। কিন্তু আক্ষেপের সুরে বলেন, “শুধু পশ্চিমবঙ্গেই যেতে পারছি না। প্রায় উনিশ-কুড়ি বছর হয়ে গেল সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।” বাংলার সঙ্গে তাঁর যোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তসলিমা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন কলকাতায় ছিলেন। তাঁর কথায়, “বাংলা তো একটাই, সংস্কৃতিও একই। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নাস্তিক, সবাই একসঙ্গে বাস করে।” বাংলাদেশে থাকতে না পেরে তিনি ২০০৪ সালে কলকাতায় এসেছিলেন, কিন্তু সেখানেও স্থায়ীভাবে থাকতে পারেননি।
এই প্রসঙ্গে তিনি (Taslima Nasrin) অভিযোগ করে বলেনন, তৃণমূল সরকার তাঁকে যেতে দেয়নি। তাঁর মেগা সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সিপিএম তাঁর বই প্রকাশও বন্ধ করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, শুধু রাজ্য নয়, দেশ থেকেও তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। নতুন সরকার প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, “নতুন সরকার যদি চায়, তাহলে একজন বাংলা-প্রেমী মানুষ হিসেবে আমি অবশ্যই থাকতে চাই। আর যদি তা না হয়, অন্তত যেন মাঝেমধ্যে যেতে পারি এবং সেখানে নিরাপত্তা পাই।”
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আগে থেকেই তাঁর সঙ্গে নিরাপত্তা থাকত। দিল্লিতেও তিনি নিরাপত্তা পান। যদিও তাঁর উপর বড় ধরনের হামলা কখনও হয়নি, তবে হায়দ্রাবাদ ও ঔরঙ্গাবাদে কিছু ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর অভিযোগ, AIMIM-এর কিছু সদস্য সেই আক্রমণের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং এসব মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে করা হয়। নিজেকে রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে মানতে নারাজ তসলিমা। তাঁর কথায়, “আমি রাজনীতির সঙ্গে খুব একটা যুক্ত নই, কিন্তু আমাকে সহজ লক্ষ্য বানিয়ে ব্যবহার করা হয়।”
সাক্ষাৎকারে কবীর সুমনের-এর প্রসঙ্গও ওঠে। তসলিমা বলেন, সুমন নিজেই একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গান লিখেছেন, সমর্থনে কাজ করেছেন। তাই তিনি প্রশ্ন তোলেন কেউ যদি সমর্থক না হন, তাহলে এত গান কীভাবে তৈরি করেন? কেউ কী হাতে পায় ধরেছিল গান বানানোর জন্য? শেষে কলকাতায় ফেরা নিয়ে আবার প্রশ্ন করা হলে তসলিমার জবাব, “যেদিন আমাকে ফিরতে দেবে, সেদিনই ফিরব।” তিনি বলেন, ভারতের অন্য রাজ্যে যেতে কোনও বাধা নেই, কিন্তু কলকাতার ক্ষেত্রে একটা দ্বিধা রয়েছে, কারণ সেখান থেকেই তাঁকে একসময় বের করে দেওয়া হয়েছিল।
ভিডিও দেখুন:
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, সেখানে তাঁকে থাকতে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, খালেদা জিয়া বা শেখ হাসিনা, কেউই তাঁকে দেশে ফিরতে দেননি। বর্তমানে সেই সম্ভাবনাও নেই বলেই মনে করেন তিনি। তবে তিনি বলেন, “আশা ছিল আমি পশ্চিমবঙ্গে কলকাতায় যদি থাকতে পারি, আমি তো কোন অন্যায় করি না আমি সাধারণভাবে লিখছি। ধর্মনিরপেক্ষতা, নারীদের পক্ষে মানবতার পক্ষে আমি শুধু লিখি। এই লেখাগুলোর বিরুদ্ধে কেন মানুষ যাবে। এসব লিখলে শাস্তি পেতে হয় কেন?” এই প্রশ্ন তুলেছেন তসলিমা নাসরিন।

আরও পড়ুনঃ সময় বেঁধে দিলেন শুভেন্দু, ৯ তারিখের পরেই বিজয় মিছিল, রাজ্যজুড়ে কড়া সতর্কতা
৩১ বছর ধরে নির্বাসনে থাকা এই লেখিকা (Taslima Nasrin) বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আরও বলেন যে, যে দেশে জিহাদি স্থান হয়ে গেছে সে দেশে অন্যায় তো হবেই। নির্বাচন সব থেকে বড় শাস্তি। ৩১ বছর হয়ে গেছে আমি নির্বাসনে। ইসলাম রাষ্ট্র নারীদের সমান অধিকার মনে করে না। সত্যি কথা বলেছি তাই শাস্তি পেতে হয়েছে। কিন্তু ভারত কেন শাস্তি দিয়েছে, এই প্রশ্ন সাথে আক্ষেপ দুটোই শোনা গিয়েছে তসলিমা নাসরিনের কণ্ঠে।
Interview by Shovan Chakraborty
Edited by Sharmi Dhar












