বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে আন্দোলন ও আইনি লড়াই বহুদিন ধরেই চলছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সামনে আসার পর এই নিয়ে আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে তাঁরাও কি এই বকেয়া ডিএ পাবেন? রাজ্য সরকার আদালতে যে তথ্য জমা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখার পর এই বিষয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কী বলা হয়েছিল?
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট ডিএ (Dearness Allowance) মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। সেই রায়ে মূলত ‘কর্মচারী’ বা ‘এমপ্লয়িজ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সেখানে আলাদা করে ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারী’ কথাটি উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি পেনশনারদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। আইনি দিক থেকে দেখলে অনেকের মতে, এই কারণে রায়ের পরিধি একটু বড় হতে পারে। অর্থাৎ, শুধু সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরাই এর আওতায় পড়বেন এমনটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
আদালতে রাজ্য সরকার কী তথ্য দিয়েছে?
গত ৭ মার্চ রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি মডিফিকেশন আবেদন জমা দেয়। সেখানে কর্মচারীদের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্যের হিসেব অনুযায়ী –
- সরাসরি রাজ্য সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা তিন লক্ষের বেশি।
- সরকার পোষিত স্কুল ও কলেজে প্রায় ৩ লক্ষ ৮৮ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী কাজ করেন।
- পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটি সহ বিভিন্ন স্থানীয় সংস্থায় প্রায় ৫৩ হাজার কর্মী রয়েছেন।
এই সমস্ত তথ্য রাজ্য সরকার নিজেই আদালতে জমা দিয়েছে। রাজ্যের দেওয়া তথ্যেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই সব ক্ষেত্রের কর্মীরাই বর্তমানে একই হারে ডিএ (Dearness Allowance) পান। এই কারণেই অনেকের মতে, যখন সবাই একই হারে মহার্ঘ ভাতা পান, তখন বকেয়া ডিএ মেটানোর সময় তাঁদের আলাদা করে বাদ দেওয়া কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুনঃ প্রতীকী সিলিন্ডার হাতে প্রতিবাদ! কালো শাড়ি পরে রাস্তায় নামল তৃণমূলের মহিলা বাহিনী
এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে (Dearness Allowance) চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই কর্মীদের সার্ভিস বুক ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই জন্য একটি নতুন পোর্টাল তৈরির কাজ চলছে। এই পোর্টালের মাধ্যমে কর্মীদের তথ্য যাচাই করা হবে। এরপর অর্থ দপ্তর বা নবান্ন থেকে কী নির্দেশ আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সেই ঘোষণার পরই পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।












