বাংলাহান্ট ডেস্ক: হায়দ্রাবাদের যুব উদ্যোক্তা তেজ রাপোলু নিজের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যাকেই ব্যবসায়িক সাফল্যের (Success Story) হাতিয়ারে পরিণত করেছেন। এক সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বহুজাতিক সংস্থা আমেরিকান এক্সপ্রেসে ডেভঅপস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। বছরে প্রায় ১.২ কোটি টাকার আকর্ষণীয় বেতনের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে শুরু করেন নিজস্ব স্টার্টআপ ‘এনলাইট’। এই সংস্থা প্রিবায়োটিক ও অন্ত্র-বান্ধব সোডা তৈরি করে, যা চিনি ও প্রিজারভেটিভ ছাড়া স্বাস্থ্যকর ঠান্ডা পানীয় হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।
তেজ রাপোলুর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
তেজের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে এক বাস্তব অভিজ্ঞতা। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ার পর তিনি নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতন হন। বিশেষ করে চিনিযুক্ত সোডা পান করার অভ্যাস তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। তিনি বুঝতে পারেন, প্রতিটি ক্যান সোডায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম পর্যন্ত চিনি থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সেই সময় তাঁর মাথায় প্রশ্ন জাগে, এমন কোনও পানীয় কি তৈরি করা যায় না যা স্বাদের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যকেও গুরুত্ব দেবে? সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘এনলাইট’-এর ধারণা।
আরও পড়ুন: টক-ঝাল স্বাদের দারুণ মেলবন্ধন, এই গরমের দুপুরে ট্রাই করুন আমপোড়া মুরগি
২০১৩ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন তেজ। এমবিএ পড়ার সময় থেকেই ব্যবসা করার ইচ্ছা মনে জাগে তাঁর। আমেরিকায় প্রিবায়োটিক সোডার জনপ্রিয়তা বাড়তে দেখে তিনি উপলব্ধি করেন, ভারতীয় বাজারে এই ধরনের স্বাস্থ্যকর পানীয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। হায়দ্রাবাদে ফিরে শুরু করেন গবেষণা ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের কাজ। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি পানীয় তৈরি করা, যা শরীরের জন্য উপকারী হওয়ার পাশাপাশি স্বাদেও আকর্ষণীয় হবে।
বর্তমানে ‘এনলাইট’ ক্লাসিক কোলা, জিঞ্জার লাইম, স্ট্রবেরি ভ্যানিলা এবং ম্যাঙ্গো মিন্টের মতো একাধিক ফ্লেভারে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি ২৫০ মিলিলিটার ক্যানের মধ্যে রয়েছে ৭ গ্রাম উদ্ভিজ্জ ফাইবার, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়। আর এতে চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে স্টিভিয়া, ফলে ক্যালোরির পরিমাণও কম। এছাড়া কোনও প্রিজারভেটিভ ব্যবহার না করেও বিশেষ পাস্তুরাইজেশন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড সিলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে পানীয়গুলির প্রায় ১০ মাসের শেলফ লাইফ নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:দেশজুড়ে নেওয়া হবে কোনও বড় সিদ্ধান্ত? কেন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?
বাজারে আসার পর থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে তেজের এই স্টার্টআপ। বর্তমানে ব্লিংকিট, অ্যামাজন এবং সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে ‘এনলাইট’। প্রাথমিক পর্যায়েই সংস্থাটি প্রায় ১ লক্ষ টাকার রাজস্ব অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে প্রতি মাসে ৫ লক্ষ টাকা আয়ের লক্ষ্য নিয়েছে তারা। এই উদ্যোগকে সফল (Success Story) করতে তেজের স্ত্রী মধুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বর্তমানে সংস্থার সিটিও এবং সিএমও হিসেবে কাজ করছেন। স্বাস্থ্যকর পানীয়ের বাজারে ‘এনলাইট’ আগামী দিনে বড় নাম হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।













