পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজার শেষকৃত্যে জেহাদিদের ভিড়! কারা হল উপস্থিত?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রহস্যজনক হামলায় মৃত্যু হয়েছে পুলওয়ামা জঙ্গি (Terrorists) হামলার অন্যতম চক্রী হামজা বুরহানের। বৃহস্পতিবার মুজাফ্ফরাবাদে একদল অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। শুক্রবার ইসলামাবাদে সম্পন্ন হয় হামজার শেষকৃত্য। আর সেই জানাজার ভিডিও সামনে আসতেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, সেখানে দেখা গিয়েছে একাধিক কুখ্যাত জঙ্গি নেতার উপস্থিতি। হেজবল্লা প্রধান সৈয়দ সালাউদ্দিন থেকে শুরু করে আল বদরের প্রধান বখত জামিন খানের মতো শীর্ষ জঙ্গিদের দেখা গিয়েছে শেষকৃত্যের প্রার্থনায়।

পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজার শেষকৃত্যে জঙ্গি (Terrorists) সংগঠনের সদস্যদের ভিড়

হামজার আসল নাম ছিল আরজুমান্দ গুলজার দার। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার রত্নীপোরা এলাকার খারবাতপোরায় জন্ম তার। স্থানীয়ভাবে সে ‘ডাক্তার’ নামেই পরিচিত ছিল। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তানে পাড়ি দেয় হামজা। সেখানেই জঙ্গি সংগঠন আল-বদরে যোগ দেয় সে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার হয়ে ওঠে হামজা। এরপর সে ফের কাশ্মীরে ফিরে আসে এবং যুবকদের মগজধোলাই করে জঙ্গি (Terrorists) সংগঠনে নিয়োগ করার কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তার নেটওয়ার্ক।

আরও পড়ুন: কোটি কোটি টাকায় রাজ্যসভার টিকিট বিক্রি করেছে আপ! বিজেপিতে যোগ দিয়েই অভিযোগ হরভজনের

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে হামজাকে জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করেছিল। পুলওয়ামা হামলা-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের একাধিক সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে তার যোগ ছিল বলে অভিযোগ। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। ভারতের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হিসেবে এখনও সেই ঘটনার স্মৃতি তাজা। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার পরিকল্পনা ও জঙ্গি নিয়োগে হামজার বড় ভূমিকা ছিল।

পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই হামজা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ছদ্মবেশে বসবাস করছিল বলে জানা গিয়েছে। সেখানে সে পরিচয় গোপন করে শিক্ষকতার কাজ শুরু করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূরে মুজাফ্ফরাবাদের একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবেও কাজ করছিল সে। বৃহস্পতিবার সকালে সেই কলেজের সামনেই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী আচমকাই হামজাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। যদিও কারা এই হামলার পিছনে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে হামজার শেষকৃত্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিওতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতির দাবিও উঠেছে। জানাজার সময় ছিল কড়া নিরাপত্তা। বিশেষ করে আল-বদর প্রধান বখত জামিন খানের চারপাশে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিদের ঘিরে থাকতে দেখা যায়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিডিও ফের প্রমাণ করছে পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি সংগঠনগুলির সক্রিয় উপস্থিতি এখনও বহাল রয়েছে। যদিও পাকিস্তান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

Terrorists gathered at the funeral of the mastermind behind the Pulwama attack.

 

 

আরও পড়ুন:মার্কিন বিদেশসচিবের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর! মোদীকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানালেন রুবিয়ো

পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই ভারত-পাক সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। সেই হামলা ঘিরে আজও একাধিক প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। এত বড় বিস্ফোরক কীভাবে কাশ্মীরে পৌঁছেছিল, গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন হামলা রোখা গেল না, এই বিতর্ক এখনও থামেনি। হামজা বুরহানের মৃত্যুতে একদিকে যেমন জঙ্গি (Terrorists) নেটওয়ার্কের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, তেমনই তার শেষকৃত্যে শীর্ষ জঙ্গিদের উপস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে নিরাপত্তা মহলে।