বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সেই সিদ্ধান্ত এসেছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে। তবে তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই সামনে আসছে একাধিক জটিলতা। এখনও পুরো তথ্য যাচাই শেষ হয়নি, উপরন্তু সার্ভার সমস্যায় যাচাই প্রক্রিয়ার শুরুর আগেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ কমিশনের (Election Commission)
গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের কথা। কিন্তু এখনও সম্পূর্ণ তথ্য যাচাই হয়নি। লজিক্যাল ভুল বা তথ্যগত অসঙ্গতি কত আছে, তারও পূর্ণাঙ্গ হিসেব তৈরি হয়নি। SIR-এ নথি যাচাই ঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা দেখতে কলকাতা হাই কোর্ট প্রতিটি জেলায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে রয়েছেন জেলা বিচারক, জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার। জুডিশিয়াল অফিসারদের ৯ মার্চ পর্যন্ত সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যাঁরা ছুটিতে ছিলেন, তাঁদের দ্রুত কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই নথি যাচাই শুরু হওয়ার কথা।
সার্ভার সমস্যায় জট
তবে কাজ শুরুর আগেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আইডি এখনও তৈরি করতে পারেনি কমিশন (Election Commission)। সার্ভার সমস্যার কারণেই এই বিলম্ব হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে যাচাই প্রক্রিয়া ঠিক সময়মতো শুরু হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কমিশনের দাবি, সোমবারের মধ্যেই সমস্যা মিটে যাবে। আধিকারিকরা ফোন নম্বর দিয়েই লগ ইন করতে পারবেন। বিধানসভা ভিত্তিক তালিকা দিয়ে যাচাইয়ের কাজ এগোবে। প্রায় ১.৫ কোটি ভোটারকে যাচাই করতে হবে বলে কমিশনের প্রস্তাব। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরি করা।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতে পারে। দোলের পর ভোটের দিন ঘোষণা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তার আগেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী আসার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বাহিনী মোতায়েন নিয়ে সোমবার বৈঠকে বসছে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর। সেখানে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক নিরাপত্তা আধিকারিক থাকার কথা।

আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ অসুস্থতার লড়াই শেষ, ৭১ বছরে প্রয়াত বর্ষিয়ান রাজনীতিক মুকুল রায়!
এই বৈঠকের আগেই মনোজ আগরওয়াল মন্তব্য করেছেন, “শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য যেখানে যে ওষুধের প্রয়োজন, সেখানে সেই ওষুধ পৌঁছে যাবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এখন নজর ২৮ ফেব্রুয়ারির দিকে। কমিশন (Election Commission) নির্ধারিত সময়েই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারে কি না, সেটাই দেখার।













