বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আঁচ এবার এসে পড়ল ভারত মহাসাগরে (Indian Ocean)। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে। গল বন্দর শহর থেকে মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলায় এখনও পর্যন্ত ৮৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ৩২ জনকে।
ভারত মহাসাগরেও (Indian Ocean) পৌঁছল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন!
জানা গিয়েছে যে, বুধবার ভোররাতে এই ঘটনাটি ঘটে। প্রথমদিকে কারা হামলা করে সেই নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। শ্রীলঙ্কার নৌসেনা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়, একটি ডুবোজাহাজ থেকেই টর্পেডো নিক্ষেপ করা হয়েছিল। পরে মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে জানা যায় যে, হামলাটি চালিয়েছে আমেরিকাই। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন অভিযানের কথা স্বীকার করে নেয়, যদিও শ্রীলঙ্কার উপকূলের সুনির্দিষ্ট উল্লেখ তারা এড়িয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে এবার ‘এন্ট্রি’ নেবে পাকিস্তান? রাখঢাক না রেখে কী ইঙ্গিত ইসলামাবাদের?
সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ জানান, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে মার্কিন ডুবোজাহাজ টর্পেডো হামলায় ডুবিয়েছে। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম আমেরিকা সরাসরি টর্পেডো ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের কোনও জাহাজ ধ্বংস করল। হেগসেথ বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপদ থাকার ধারণা ভেঙে দিতেই এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম ছিল ‘ডেনা’। শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাহাজটিতে মোট ১৮০ জন নৌসেনা কর্মী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার সময় ভোর ৫টা ৮ মিনিটে জাহাজটি বিপদসংকেত পাঠায় এবং সাহায্য চায়। পরে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী আহতদের উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। ইতিমধ্যেই আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: ভূস্বর্গে নিয়ন্ত্রণরেখায় পাকিস্তানি জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা! কড়া অ্যাকশন ভারতীয় সেনার
এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও রীতিমতো উদ্বেগ বাড়ছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ভারত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন সামরিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর সংঘাতের ইঙ্গিত কিনা, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলেও আরও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। শ্রীলঙ্কা আপাতত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখারই কথা জানিয়েছে, তবে তাদের উপকূলের এত কাছে এমন হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও তুলে দিয়েছে।












