ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে এবার ‘এন্ট্রি’ নেবে পাকিস্তান? রাখঢাক না রেখে কী ইঙ্গিত ইসলামাবাদের?

Published on:

Published on:

Will Pakistan enter the Iran-Israel war this time?
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এবার ময়দানে নামবে পাকিস্তান (Pakistan)? আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানকে ঘিরে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। আঞ্চলিক শক্তিগুলির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই আবহে পাকিস্তানও কি সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে— এমন জল্পনা তীব্র হয়েছে কূটনৈতিক মহলে। ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে এবার ‘এন্ট্রি’ নেবে পাকিস্তান (Pakistan)?

‘Financial Times’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে সৌদি আরবের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, রিয়াধের সঙ্গে ইসলামাবাদের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে এবং সেই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সৌদি আরবের উপর হামলা হলে পাকিস্তান তা নিজেদের উপর হামলা হিসেবেই বিবেচনা করবে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিটি অনেকটা ন্যাটোর ধাঁচে তৈরি, যেখানে এক দেশের নিরাপত্তা অন্য দেশের সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।

আরও পড়ুন: বিপুল পরিমাণে বকেয়া বিনোদন কর, অর্থবর্ষ শেষের আগেই কোমর বেঁধে নামল পুরসভা

ইসহাক দারের দাবি, এই প্রতিরক্ষা সমঝোতার কারণেই নাকি সৌদি আরবে বড় ধরনের হামলা চালানো থেকে বিরত থেকেছে ইরান। তাঁর কথায়, রিয়াধের বিরুদ্ধে আক্রমণ তুলনামূলক কম হওয়ায় চুক্তির কার্যকারিতা স্পষ্ট। তবে এর বদলে তেহরান নাকি পাকিস্তানের কাছে আশ্বাস চেয়েছে যে সৌদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যদিও এই দাবির  কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও অস্থির। একাধিক সামরিক কমান্ডের অধীনে ছড়িয়ে থাকা বাহিনী বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ। ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে কার স্তরে আলোচনা হয়েছে এবং তার বাস্তব প্রভাব কতটা— তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সৌদি আরব ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ইরানের আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: ‘স্তব্ধ’ হরমুজ প্রণালীতে আটকে ৩৮ টি ভারতীয় জাহাজ! নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে খোলা হল কন্ট্রোল রুম

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া পাকিস্তানের পক্ষে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পাকিস্তানের প্রায় চার কোটি শিয়া জনসংখ্যার বড় অংশ ইরানের প্রতি সহানুভূতিশীল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানে তীব্র প্রতিবাদ ও হিংসাত্মক বিক্ষোভে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পাশাপাশি আফগানিস্তানে তালিবানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষও অব্যাহত। এমন অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিলে পাকিস্তান কার্যত দ্বিমুখী সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।