বাংলাহান্ট ডেস্ক: ডুরান্ড লাইনে আফগান তালিবানের সঙ্গে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে সংঘাত। তার মধ্যেও জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলওসি-তে পাকিস্তানি জঙ্গিদের সক্রিয়তায় একফোঁটাও ভাটা পড়েনি। সূত্রে জানা গিয়েছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের দিক থেকে জঙ্গিদের ভারতে ঢোকার চেষ্টা ভেস্তে দিল ভারতীয় সেনা (Indian Army)। এই প্রেক্ষাপটে এলওসি জুড়ে নজরদারি আরও কড়া করেছে ভারতীয় সেনা।
এলওসিতে পাক জঙ্গি অনুপ্রবেশ রুখল ভারতীয় সেনা (Indian Army)
মঙ্গলবার গভীর রাতে জম্মুর ভীম্বর গলি সেক্টরে এমনই এক অনুপ্রবেশের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই সতর্ক ছিল বাহিনী। জম্মুর নাগ্রোটায় মোতায়েন ১৬ নম্বর কোর, যা ‘হোয়াইট নাইট কোর’ নামে পরিচিত, সেই অভিযান পরিচালনা করে। জানা গিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধি নজরে আসতেই দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ‘অশান্ত’ পরিস্থিতি! তেল নিয়ে আদৌ চিন্তিত ভারত? কী জানালেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী?
অভিযানের সময় আকাশপথ ও স্থলপথ দুই দিক থেকেই নজরদারি চালানো হয়। আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহভাজন গতিবিধিও চিহ্নিত করা হয়। ড্রোনে কয়েকজন সশস্ত্র জঙ্গির উপস্থিতি ধরা পড়ার পরই সেনা তাদের লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি চালায়। পরিস্থিতি বুঝে অনুপ্রবেশকারীরা ফের দ্রুত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের দিকে চলে যায় বলে জানা গিয়েছে।
তবে ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই। তবে সীমান্তে সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। শীতের সময়ে ভারী তুষারপাতের কারণে এলওসির বহু অংশে যাতায়াত দুর্গম হয়ে যায়। বরফ গলতে শুরু করলেই সেই পথগুলিকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গিরা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় বলে জানা গিয়েছে। তাই শীত যেতেই নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে এবার ‘এন্ট্রি’ নেবে পাকিস্তান? রাখঢাক না রেখে কী ইঙ্গিত ইসলামাবাদের?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডুরান্ড লাইনে আফগান সীমান্তে চাপ থাকলেও পাকিস্তান কাশ্মীর ফ্রন্টে তৎপরতা কমাচ্ছে না। বরং দুই ফ্রন্টেই সক্রিয় থাকার কৌশল নিয়েছে ইসলামাবাদ। ভারতীয় সেনার তরফে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে যে, সীমান্তে যে কোনও রকম অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।












