বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অশান্তিতে টান পড়বে না ভারতের তেল ভাণ্ডারে, জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri)। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরান জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করার পর থেকেই তেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাজারে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জেরে গ্যাস সরবরাহ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ভারতে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কি বললেন মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri):
ভারতেও যেহেতু এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ হয় তাই সেখানেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় ২৫ দিনের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে এবং সমপরিমাণ পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যও মজুত আছে। বন্দরের উদ্দেশে আসা জাহাজে থাকা তেলও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পেট্রোল, ডিজেল বা রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের আপাতত কোনও ঘাটতির সম্মুখীন হতে হবে না।
আরও পড়ুন: রবিবার থেকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ টানা বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে, কতদিন চলবে? আবহাওয়ার আগাম খবর
ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। যদিও হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের মোট সরবরাহের প্রায় ৪০ শতাংশই পরিবাহিত হয়, বাকি ৬০ শতাংশ আসে অন্যান্য উৎস থেকে। গত কয়েক বছরে রাশিয়া, আফ্রিকা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়ে তেলের উৎস বহুমুখীকরণ করেছে ভারত। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা Kpler-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেল সঞ্চিত রয়েছে, যা প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে গ্যাস বাজারেও। কাতারে হামলার জেরে সাময়িকভাবে এলএনজি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে বছরে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লক্ষ টন এলএনজি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ভারত বছরে প্রায় ২৭ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করে, যার প্রায় ৪০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার শিল্প, সিএনজি এবং পাইপের গ্যাস সরবরাহে এই আমদানির বড় ভূমিকা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘স্তব্ধ’ হরমুজ প্রণালীতে আটকে ৩৮ টি ভারতীয় জাহাজ! নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে খোলা হল কন্ট্রোল রুম
সরকারি সূত্রের, দেশের হাতে মোট প্রায় ৫০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে, যার মধ্যে কৌশলগত ভাণ্ডারও অন্তর্ভুক্ত। পাডুর, বিশাখাপত্তনম ও ম্যাঙ্গালুরুতে গড়ে তোলা তেল ভাণ্ডার জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যেতে পারে, আর চণ্ডিখোলে নতুন ভাণ্ডার নির্মাণাধীন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পেলেও এই সঞ্চয় থেকে সরবরাহ দিয়ে চাপ সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র, যাতে দেশীয় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।












