বাংলাহান্ট ডেস্ক: উচ্চ-উচ্চতার দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর (Indian Army) ড্রোন সক্ষমতা আরও বাড়াতে বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় সেনা। কঠোর পরীক্ষা এবং ফিল্ড ট্রায়ালের পর দেশীয় সংস্থা অ্যারোড্রোন রোবোটিক্স প্রাইভেট লিমিটেডকে ২২৫টি FPV বা First-Person View ড্রোনের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই ড্রোনগুলির কার্যক্ষমতা ১৭,৫০০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় পরীক্ষা করা হয়েছে। উড্ডয়ন ক্ষমতা, গতি, নির্ভুলতা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল মাপকাঠিতে সাফল্যের পরেই এই ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনার হাতে আরও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ছোট ড্রোন পৌঁছনোর পথ খুলল।
সামরিক শক্তি বাড়াতে ভারতীয় সেনার (Indian Army) হাতে আসছে ২২৫ FPV ড্রোন
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট আকারের FPV ড্রোনের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। নজরদারি, লক্ষ্য চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে প্রয়োজন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট হামলা এবং কঠিন ভূখণ্ডে দ্রুত অভিযান—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় যেখানে প্রচলিত বড় প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা কঠিন, সেখানে ছোট ও দ্রুতগতির ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ১৭,৫০০ ফুট উচ্চতায় পরীক্ষার ফলে তীব্র ঠান্ডা, কম বায়ুচাপ এবং জটিল ভূপ্রকৃতির মতো পরিস্থিতিতে ড্রোনগুলির বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করার সুযোগ মিলেছে (Indian Army)।
আরও পড়ুন: জালে উঠছে ইলিশ, পুজোর আগে খুশির হাওয়া! মৎস্যজীবীদের মুখে ফুটেছে হাসি
অ্যারোড্রোন রোবোটিক্সের জন্যও এই অর্ডার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এতদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংস্থাটির কাজ মূলত পরীক্ষা, মূল্যায়ন এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনের পর্যায়ে ছিল। এবার সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম হিসেবে ড্রোন কেনার অর্ডার পাওয়ায় সেই সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোল। সংস্থার দাবি, তাদের সামরিক ড্রোনে নিজস্বভাবে তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, যা প্রয়োজন অনুযায়ী সিস্টেমকে বিভিন্ন অপারেশনাল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয়। ড্রোন সরবরাহের পাশাপাশি অপারেটর প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেয় সংস্থাটি।
ড্রোন যুদ্ধের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীও গত কয়েক বছরে এই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থেকে পাওয়া শিক্ষা ছোট ড্রোন ও FPV প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তাকে আরও সামনে এনেছে। সেনাবাহিনী শুধু উচ্চতর সদর দফতরের স্তরে নয়, ব্যাটালিয়ন পর্যায়েও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগিয়েছে। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:দুর্গাপুজোয় মেট্রো পরিষেবা কখন থেকে কখন, জেনে নিন সময়সূচি
এই পরিবর্তনেরই অংশ হিসেবে পদাতিক ব্যাটালিয়নগুলিতে বিশেষায়িত ড্রোন ব্যবহারের ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় ৪০০টি পদাতিক ব্যাটালিয়নে ‘অশনি’ ড্রোন প্লাটুন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে প্রশিক্ষিত জওয়ানরা FPV অ্যাটাক ড্রোন, লোইটারিং মিউনিশন এবং লজিস্টিকস ড্রোন পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করছেন। ফলে ২২৫টি নতুন FPV ড্রোনের অর্ডারকে শুধু একটি সরঞ্জাম কেনার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং ভারতীয় সেনার (Indian Army) যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, ছোট এবং দেশীয় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।













