AK-47 হাতে একাই ১৬ জঙ্গিকে খতম করেছিলেন এই IPS, কাবু করে দেন দিল্লি পুলিশকেও

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বরাবর স্পষ্টবাদী বলেই পরিচিত তিনি, ইউপিএসসিতে সারা দেশের মধ্যে অর্জন করেছিলেন ৮৫ তম স্থান। চাইলেই যে কোন রকম আরামের চাকরি করে সুখের দিন কাটাতে পারতেন সংযুক্তা প্রসার। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, তারপর জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে স্নাতকোত্তর পাশ। ডিগ্রির ঝুলিতে রয়েছে এমফিল এবং আমেরিকার বিদেশনীতি নিয়ে ডক্টরেটও। কিন্তু দুর্দান্ত মেধাবী ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বেছে নেন আইপিএস অফিসারের পদ।

শুরু থেকেই স্পষ্টবাদী বলে, তাকে রীতিমত সমীহ করে চলেন সকলেই। এমনকি দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধেও নিজের বক্তব্য রাখতে একটুও পিছপা হননি সংযুক্তা। কয়েক মাস আগেই তিনি উঠে এসেছিলেন খবরের শিরোনামে। নিজেই সরকারি গাড়ি চালিয়ে ফিরছিলেন সংযুক্তা। সে সময় তাকে আটকায় দিল্লি পুলিশ। এমনকি পরিচয় দেয়ার পরও তারা বিশ্বাস করতে চায়নি তিনি একজন আইপিএস আধিকারিক। পুলিশের এই ব্যবহারের পর তাদের বিরুদ্ধে লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ আনেন সংযুক্তা। যা নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছিল দিল্লি পুলিশকে।

সংযুক্তা অবশ্য শুরু থেকেই নিজের কাজে বদ্ধপরিকর। ২০০৮ সালে তার প্রথম পোস্টিং হয় মাকুমে। বোড়ো জঙ্গিদের সঙ্গে তখন রীতিমতো সংঘর্ষ চলছে বাংলাদেশি শরণার্থীদের। অ্যাসিস্ট্যান্ট কমাড্যান্ট পদে নিযুক্ত হওয়া সংযুক্তাকেই পাঠানো হয় উদলগিরিতে তাদের দৌরাত্ম্য কমানোর জন্য। জানা যায় সেসময় হাতে একে ৪৭ নিয়ে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। দেড় বছরে তাঁর হাতে মারা পরে ১৬ জন জঙ্গি। সিআরপিএফ দলের নেত্রী হিসেবে প্রচুর অস্ত্রও উদ্ধার করেছিলেন তিনি। গ্রেপ্তার করেছিলেন প্রায় ৬৪ জন জঙ্গিকে। তাঁরই নেতৃত্বে অসমে সেনা কনভয়ের উপর হামলাকারী জঙ্গিদেরও গ্রেফতার করে অসম পুলিশ।

একদিকে যেমন তিনি কঠিন, তেমনই আবার অন্যদিকে একই রকম নরম। রাস্তায় হেলমেট পড়ে বেরোলে বাইক আরোহীদের লজেন্স দেওয়ার নিয়মও চালু করেছিলেন এই সংযুক্তাই। আবার একইভাবে ইভটিজিং কমাতে কলেজের সামনে সাদা পোশাকের পুলিশও মোতায়ন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনিই। যা পরবর্তীতে যথেষ্ট কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়। আপাতত দিল্লিতে কর্মরত সংযুক্তা, চাকরির অবসরের সময় কাটান ন বছরের পুত্রকে নিয়ে। ঝোঁক রয়েছে সাঁতার এবং দৌড়েও। পিঙ্ক ম্যারাথনেও অংশগ্রহণ করতে দেখা গিয়েছে এই আইপিএস অফিসারকে। আসামবাসী অনেকেই এখনও তাকে বলেন লৌহ কন্যা।

সম্পর্কিত খবর

X