বাংলা হান্ট ডেস্ক: চলতি বছরের রঙের উৎসব হোলি প্রায় উপস্থিত। যেটি সারা দেশের ব্যবসায়ীদের (Holi Market) জন্য রীতিমতো আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT) জানিয়েছে, চলতি বছরের হোলিতে দেশজুড়ে ৮০,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই পরিসংখ্যান গত বছরের ৬০,০০০ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।
শুধুমাত্র হোলিতেই দেশজুড়ে ৮০,০০০ কোটির ব্যবসা (Holi Market):
বাজার থেকে চিনা পণ্য উধাও: উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘ভোকাল ফর লোকাল’ অভিযানের প্রভাব এখন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন হোলির বাজারগুলিতে সম্পূর্ণরূপে চিনা পিচকারি এবং অন্যান্য জিনিসপত্র আধিপত্য বিস্তার করত। তবে, ২০২১ সাল থেকে, এই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে এবং এখন বাজারে সম্পূর্ণরূপে দেশীয় পণ্য দ্বারা আধিপত্য বিস্তার করেছে। শুধু তাই নয়, গ্রাহকরাও এখন যথেষ্ট সচেতন হয়েছেন। তাঁরা প্রাকৃতিক রঙ, ভেষজ আবির, চন্দন কাঠ এবং ভারতে তৈরি পুজোর উপকরণ পছন্দ করছেন। স্থানীয় কারিগরদের তৈরিপিচকিরি, বেলুন এবং অন্যান্য জিনিসপত্র বিপুল পরিমাণে মতো বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও স্পাইডারম্যান এবং ছোটা ভীমের মতো জনপ্রিয় চরিত্রগুলির পিচকারি শিশুদের আকৃষ্ট করছে। পোশাকের দিক থেকেও সাদা টি-শার্ট, ঐতিহ্যবাহী কুর্তা সহ, ‘হ্যাপি হোলি’ লেখা যুক্ত টি-শার্টও বিপুল পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে সরাসরি দেশের কুটির শিল্প এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা লাভবান হচ্ছে। ফলে বিদেশি নির্ভরতার অবসানে স্থানীয় ব্যবসার অগ্রগতি ঘটছে।

দিল্লির বাজারগুলি ব্যস্ততায় জমজমাট: ব্যবসায়িক কার্যকলাপের দিক থেকে রাজধানী দিল্লিতেও যথেষ্ট কর্মব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। CAIT-র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা চাঁদনী চকের সাংসদ সদস্য প্রবীণ খান্ডেলওয়ালের মতে, হোলির আবহে শুধুমাত্র দিল্লিতেই ১৫,০০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের অনুমান রয়েছে। শহরের পাইকারি ও খুচরো বাজারগুলি গ্রাহকদের ভিড়ে পরিপূর্ণ। এদিকে, মিষ্টির দোকানগুলিতে ঐতিহ্যবাহী গুজিয়ার চাহিদা আকাশছোঁয়া। বিশেষভাবে প্রস্তুত ড্রাই ফ্রুটসের প্যাকেটও প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি, গ্রসারি, FMCG পণ্য, ফল, ফুল এবং উপহার সামগ্রীর দোকানগুলিতে কেনাকাটার জন্য মানুষের দীর্ঘ সারি রয়েছে।
আরও পড়ুন: আকাশেও ধ্বনিত হবে আত্মনির্ভরতার জয়গান! Embraer-এর সঙ্গে নয়া ইতিহাস তৈরির পথে আদানি গ্রুপ
রঙের উৎসব: জানিয়ে রাখি যে, হোলি রঙের উৎসবের পাশাপাশি সামাজিক সমাবেশেরও একটি প্রধান উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে হোলির বিভিন্ন মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। শুধুমাত্র দিল্লিতেই, বিভিন্ন ব্যবসায়িক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক সংগঠনগুলি ৩,০০০-এরও বেশি এই ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে।
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে কত দিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক? দুর্ভোগ এড়াতে জেনে নিন ছুটির তালিকা
এই অনুষ্ঠানগুলি সার্ভিস এবং হসপিটালিটি সেক্টরকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ করছে। ব্যাঙ্কোয়েট হল থেকে শুরু করে ফার্মহাউস, বড় রেস্তোরাঁ এবং পাবলিক পার্কগুলি প্রায় সম্পূর্ণ বুকড। জানিয়ে রাখি যে, চলতি বছরে হোলিকা দহন সম্পন্ন হবে আগামী ৩ মার্চ এবং আগামী ৪ মার্চ হল হোলি।













