বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের (Ladakh) প্রশাসনিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার উপরাজ্যপাল ভি.কে সাক্সেনা জানিয়েছেন, লাদাখে আরও পাঁচটি নতুন জেলা গঠন করা হচ্ছে। এর ফলে এতদিনের দুটি জেলা, লেহ এবং কার্গিল থেকে বেড়ে মোট জেলার সংখ্যা দাঁড়াল সাতে। প্রশাসনের মতে, এই সিদ্ধান্ত লাদাখের শাসনব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসবে।
লাদাখের (Ladakh) প্রশাসনিক মানচিত্রে এবার বড় পরিবর্তন!
উপরাজ্যপাল সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘোষণাকে লাদাখবাসীর জন্য ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে প্রশাসনিক সুবিধা বাড়ানোর দাবি উঠছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের পর সেই দাবি বাস্তব রূপ পেল। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয় এবং বর্তমানে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অপারেশন সিঁদুরে নাস্তানাবুদ হয়ে ক্ষত ভুলতে কাবুলে হামলা চালান মুনির? সামনে এল বিস্ফোরক রিপোর্ট
নতুন ঘোষণায় যে পাঁচটি জেলা যুক্ত হয়েছে, সেগুলি হল নুব্রা, শাম, চাংথাং, জংস্কার এবং দ্রাস। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই নতুন জেলা গঠনের ফলে প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে সরকারি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছবে এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান সহজ হবে।
এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হিসেবে তৃণমূল স্তরের শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। এতদিন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে লেহ বা কার্গিলে প্রশাসনিক কাজের জন্য যেতে হতো, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। এখন স্থানীয় স্তরেই প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়া গেলে সময় ও খরচ দুইই কমবে। পাশাপাশি নতুন জেলা গঠনের ফলে অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি অফিস স্থাপন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে নিকেশ হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ! অজ্ঞাত বন্দুকধারীর হামলায় খতম লস্কর কমান্ডার আফ্রিদি
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ধরা ৩৭০ প্রত্যাহারের পর জম্মু-কাশ্মীরকে ভাগ করে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে গড়ে ওঠে লাদাখ (Ladakh)। সেই পরিবর্তনের পর থেকেই এই অঞ্চলের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র। নতুন জেলা গঠনকে সেই ধারাবাহিক উন্নয়ন পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ লাদাখের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এবং সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে প্রশাসনিক কাঠামো আরও মজবুত করবে।












