বাংলা হান্ট ডেস্ক: ফের চর্চায় পাক সেনা প্রধান আসিম মুনির (Asim Munir)! দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পাকিস্তানে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ওঠা একাধিক অভিযোগ। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে এমন এক রিপোর্ট, যেখানে দাবি করা হয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে ধাক্কা খাওয়ার পর সেই ক্ষত ঢাকতেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয় ইসলামাবাদ। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
অপারেশন সিঁদুরে নাস্তানাবুদ হয়ে ক্ষত ভুলতে কাবুলে হামলা চালান মুনির (Asim Munir)?
তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা TTP-এর মুখপত্রে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে পরাজয়ের পর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক স্তরে চাপে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রতিবেশী আফগানিস্তানকে সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেয় পাক সেনা নেতৃত্ব। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই হামলার মাধ্যমে সামরিক সাফল্যের বার্তা দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: আলুর বদলে পটল রাঁধুন পোস্ত দিয়ে, গরম ভাতের সঙ্গে চেখে দেখুন পদটি, রইল রেসিপি
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানের একাধিক শহরে বিমান হামলা চালানো হয়, যাতে শতাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয় বলে দাবি। পাকিস্তান সেই সময় ‘উস্কানিমূলক গুলির’ জবাব হিসেবে হামলার কথা বললেও, টিটিপি দাবি করেছে যে এই অভিযান ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং একতরফা। ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’-এর আওতায় এই হামলা চালানো হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া এই সামরিক পদক্ষেপের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক হিসাবনিকাশও কাজ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। টিটিপির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতেই এই পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তান। পুরনো সম্পর্ককে পুনরায় সক্রিয় করতে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে এই আগ্রাসন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: ভোটের দিনে যাত্রীদের জন্য জরুরি আপডেট, কলকাতা মেট্রোর সময়সূচি এক নজরে দেখে নিন
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করে। এরপর সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ে এবং পাল্টা সংঘর্ষে পাকিস্তানও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা আসিম মুনির (Asim Munir) কেউ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবুও গোটা ঘটনাপ্রবাহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।












