বাংলা হান্ট ডেস্ক: ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের ফলাফল ঘোষণা করেছে ICICI ব্যাঙ্ক। গত মার্চ মাসে শেষ হওয়া অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে এই ব্যাঙ্কটির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। পাশাপাশি, ব্যাঙ্কটি ডিভিডেন্ডেরও (Dividend) ঘোষণা করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ব্যাঙ্কটি ১৩,৭০২ কোটি টাকার নিট মুনাফা অর্জন করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১২,৬২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মুনাফায় সরাসরি ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে। এদিকে, ব্যাঙ্কটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৫০,৫৮৪ কোটি টাকায়। যা গত বছরের একই ত্রৈমাসিকের ৪৯,৬৯০ কোটি টাকার তুলনায় ১.৮ শতাংশ বেশি। এই উল্লেখযোগ্য পরিমাণটি ইঙ্গিত দেয় যে ব্যাঙ্কটির ব্যবসা স্থিরভাবে এবং দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে।
ICICI ব্যাঙ্ক ডিভিডেন্ডের (Dividend) ঘোষণা করেছে:
ব্যাঙ্কের প্রকৃত আয়ে বিপুল বৃদ্ধি: জানিয়ে রাখি যে, যেকোনও ব্যাঙ্কের প্রকৃত শক্তি তার নিট ইন্টারেস্ট ইনকাম তথা NII দ্বারা পরিমাপ করা হয়। গ্রাহকদের দেওয়া ঋণের ওপর ব্যাঙ্ক যে পরিমাণ সুদ অর্জন করে এবং আমানতকারীদের তাদের অর্থের ওপর যে সুদ প্রদান করে, তার মধ্যেকার পার্থক্যই হল NII। এই ক্ষেত্রেও ICICI ব্যাঙ্ক ৮.৪ শতাংশের একটি শক্তিশালী বৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত বছরের একই সময়ের ২১,১৯৩ কোটি টাকা থেকে এটি বেড়ে মার্চ ত্রৈমাসিকে পৌঁছে গিয়েছে ২২,৯৭৯ কোটি টাকায়।

ঋণখেলাপির (NPA) উল্লেখযোগ্য হ্রাস: উল্লেখ্য যে, ব্যাঙ্কিং সেক্টরে সবচেয়ে বড় ভয় হল ঋণখেলাপির ঘটনাও। এক্ষেত্রেও, ICICI ব্যাঙ্ক বাজিমাত করেছে। ব্যাঙ্কটির নিট NPA অনুপাত এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ থেকে কমে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ০.৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। NPA-র এই হ্রাসের সহজ অর্থ হল, ব্যাঙ্কটি যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে, তারা সময়মতো তাদের ঋণ পরিশোধ করয়েছে। একজন সাধারণ গ্রাহকের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি বিরাট স্বস্তির বিষয়। এই ঘটনায় ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে।
আরও পড়ুন: ‘বিরোধীরা তাদের পাপের শাস্তি অবশ্যই পাবে’, মহিলা সংরক্ষণ বিলের প্রসঙ্গে কী জানালেন মোদী?
রিটেল গ্রাহকরাই ব্যাঙ্কের প্রধান ভরসা: ICICI ব্যাঙ্ক ঋণ প্রদানেও দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। মোট ঋণ গত বছরের তুলনায় ১৫.৮ শতাংশ এবং পূর্ববর্তী ত্রৈমাসিকের তুলনায় ৬.০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই পরিমাণ ১৫,৫৩,৮৯৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ব্যাঙ্কটি সাধারণ জনগণকে (রিটেল গ্রাহকদের) উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ঋণ প্রদান করেছে। রিটেল লোন পোর্টফোলিও গত বছরের তুলনায় ৯.৫ শতাংশ এবং গত ত্রৈমাসিকের তুলনায় ৪.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ব্যাঙ্কটির মোট বিতরণ করা ঋণের ৫০.৪ শতাংশই হল রিটেল লোন।
আরও পড়ুন: পরপর ব্যর্থতা! IPL ২০২৬-এ আদৌ প্লে-অফে পৌঁছতে পারবে KKR? কী বলছে সমীকরণ?
ডিভিডেন্ডের ঘোষণা: জানিয়ে রাখি যে, ICICI ব্যাঙ্ক তার বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ডের ঘোষণা করেছে। ব্যাঙ্কটি জানিয়েছে যে, প্রতিটি ইক্যুইটি শেয়ারের (যার ফেস ভ্যালু ২ টাকা) ক্ষেত্রে ১২ টাকার ডিভিডেন্ড প্রদান করা হবে। তবে, এটি চূড়ান্ত নয় এবং এর জন্য শেয়ার হোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে, ব্যাঙ্ক স্পষ্ট করেছে যে, আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ার হোল্ডারদের অনুমোদন পেলেই ডিভিডেন্ড প্রদান করা হবে। এখন যদি আমরা এই ব্যাঙ্কের শেয়ারের পারফরম্যান্সের দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে যে, শুক্রবার ICICI ব্যাঙ্কের শেয়ার BSE-তে ০.১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৩৪৭.৫০ টাকায় বন্ধ হয়েছে। গত এক বছরে এই শেয়ারটির দাম প্রায় ৪.০৪ শতাংশ কমেছে। তবে স্বল্প মেয়াদে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। গত এক মাসে এই শেয়ারের দাম প্রায় ৪.৯৩ শতাংশ বেড়েছে।













