বাংলা হান্ট ডেস্ক : ফলতার রাজনীতিতে ক্রমশ বাড়ছে উত্তাপ। একদিকে ঘনিষ্ঠ নেতার গ্রেফতারি, অন্যদিকে পুরনো খুনের মামলায় নাম জড়ানো-সব মিলিয়ে চাপে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)। এই পরিস্থিতিতেই নিজের বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে দাবি করে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপ ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে।
হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ জাহাঙ্গিরের। বিরোধীদের চাপের মুখে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে একের পর এক মামলা দায়ের করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সেই কারণেই সম্ভাব্য গ্রেফতারি বা পুলিশি পদক্ষেপের আশঙ্কায় আদালতের সুরক্ষা চেয়ে আবেদন জানান ফলতার এই তৃণমূল নেতা।
সোমবার আইনজীবী কিশোর দত্ত বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটি উত্থাপন করেন। দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলে আদালত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। আদালত সূত্রে খবর, আজই মামলার জরুরি শুনানি হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ফলতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ নেতা সাইদুল খানের গ্রেফতারির পর। ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদে থাকা সাইদুলকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। জানা গেছে, বহুদিন ধরেই স্থানীয়রা সাইদুল খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। বিরোধী কর্মীদের হুমকি দেওয়া, মারধর করার অভিযোগের ভিত্তিতেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরই মধ্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রায় এক দশক পুরনো একটি হত্যাকাণ্ড ঘিরে। ৬ বছরের এক শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় সম্প্রতি নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছে। সেই মামলায় জাহাঙ্গির খান-সহ মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ২০১৭ সালে বিজেপির সমর্থক হওয়ার কারণেই তাঁদের পরিবারের উপর হামলা হয়েছিল এবং সেই ঘটনার জেরেই শিশুটির মৃত্যু হয়। যদিও সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গির খান। তাঁর বক্তব্য, “পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।”

আরও পড়ুন : একলাফে বেতন হবে ৫২,৩৮০ টাকা? রাজ্য সরকারি কর্মীদের সপ্তম পে কমিশন নিয়ে প্রত্যাশা
উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি জাহাঙ্গির খানকে। তা নিয়েই বিরোধীদের তরফে কটাক্ষ শুরু হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমি কোথাও পালিয়ে যাইনি। এলাকাতেই ছিলাম।” ফলতার রাজনৈতিক অন্দরে এখন চাপানউতোর চরমে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।













