বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আবারও গ্রেফতার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস (Ujjwal Biswas Arrested)। তাঁর বিরুদ্ধ্যে ত্রাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগ রয়েছে। যার জেরে পুলিশ তাঁর নদিয়ার কৃষ্ণনগরের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায়। এরপর যে সমস্ত জিনিস বেরিয়ে আসে তা দেখে রীতিমত অবাক পুলিশ সহ স্থানীয়রা। চুরির সামগ্রী উদ্ধারের পরেই গ্রেফতার করা হয় উজ্জ্বল বিশ্বাসকে।
ত্রাণসামগ্রী চুরির জেরে গ্রেফতার উজ্জ্বল বিশ্বাস
যেমনটা জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলা এলাকায় উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়িতে দুপুরের দিকে হাজির হয়ে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ দিয়ে শুরু হয়, এরপর বাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র তল্লাশি করার পক্রিয়া চলতে থাকে। সেই সময়েই বিশাল সংখ্যক ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়। তৎক্ষণাৎ সেই সমস্ত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার বন্দোবস্ত করে পুলিশ। কিন্তু ততক্ষণে খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত হয়ে ওঠা আমজনতা।

গায়ে-মুখে ডিম ছোঁড়ে উত্তেজিত জনতা
সূত্র মতে, চুরির ত্রাণসামগ্রী সামনে পর ভিড় জমতে শুরু করে বাড়ির সামনে। ‘চোর চোর’ স্লোগানের জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। যদিও সেখানে উজ্জ্বলের ভাগ্নে সৌম্যনারায়ণ খাটুয়া চুরির অভিযোগকে একেবারেই অস্বীকার করেন। তাঁর মতে, মামা বিধায়ক হওয়ার জন্য নিজের কোটাতেই ওই ত্রাণসামগ্রী পেয়েছিলেন। যেহেতু সমস্তটা বিলি করা হয়নি তাই ঘরেই রাখা ছিল। এছাড়া কিছুদিন আগেই নদিয়ার জেলাশাসক ও কৃষ্ণনগর ২ ব্লকের বিডিওকে এই ত্রাণ সামগ্রী ফেরত নেওয়ার জন্য নাকি চিঠিও লিখেছিওলেন তিনি। বুধবার বিকালে পুলিশ সেসব ফেরত নিতে আসে বিডিও অফিসের কর্মী ও পুলিশ এলে বিজেপি কর্মীরা হামলা চালায়।
আরও পড়ুনঃ কোনো দুর্নীতি বরদাস্ত নয়! ১০০ দিনের কাজ শুরুর আগেই করা নির্দেশ নারী নবান্নের
এদিনের ঘটনায় উজ্জ্বল বিশ্বাসকে গ্রেফতারের দাবির পাশাপাশি সুচরিতা ঘোষকে সাদা থান পড়িয়ে প্রতিবাদও শুরু হয়ে বলে জানা গিয়েছে। তারপর ডিম ছুঁড়তে থাকে উত্তেজিত জনতা। শেষ পুলিশ তাকে কোতোয়ালি থানায় তুলে নিয়ে যায়। এদিকে উজ্জ্বলের পরিবারের অভিযোগ বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা চড়াও হয়ে ভাঙচুর করেছে।
কিভাবে এই বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে এসে পৌছালো? সেই নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনায় উজ্জ্বল বিশ্বাসের পিছনে বা সাথে আরও কেউ জড়িয়ে আছে কি না? যদি থাকে তাহলে তারা কারা? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, এই নিয়ে মমতার মন্ত্রিসভা থেকে দ্বিতীয়বার মন্ত্রীকে জেলবন্দি হতে হল। এর আগে ১১ই মে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। যার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়া হলেও আশানুরূপ ফল মেলেনি। আগামী জুলাই মাসে মামলার শুনানির দিনেই জানা যাবে সুজিত বসুর জামিন হচ্ছে কি না।













