বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ফের একবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের। কাটমানি থেকে শুরু করে লাগামছাড়া তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশের জালে কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের বিতর্কিত তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত (Bappaditya Dasgupta)। শনিবার রাতেই তাঁকে পাটুলি থানায় নিয়ে আসা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের গাড়ি থেকে নামতেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
‘এলাকার ত্রাস’ সৌরভের বয়ানেই ফাঁস কাউন্সিলর?
যেমনটা জানা যাচ্ছে, বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের গ্রেফতারির নেপথ্যে রয়েছে তাঁরই ঘনিষ্ঠ ও ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব সভাপতি সৌরভ ঘোষ। স্থানীয়দের কাছে ‘এলাকার ত্রাস’ বলে পরিচিত এই সৌরভকে আগেই তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল পাটুলি থানার পুলিশ। তারপর পুলিশি জেরার মুখে সৌরভের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্যর খোঁজ পান। ভোট-পরবর্তী হিংসা থেকে শুরু করে সিন্ডিকেট রাজ ও প্রতিবাদীদের ভয় দেখানোর মত একাধিক মারাত্মক অভিযোগ জমা পড়েছিল এই দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে।
শুরুর দিকে বিজেপি নেতা তপন শিকদারের অনুগামী ছিলেন বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। যদিও ২০০৬ এর পর থেকেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। এমনকি পার্থকে ‘গুরু’ বলেও স্বীকার করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে পুর ভোটের প্রাথী হলে সকলের মনেই সন্দেহ শুরু হয়। ২০২৩ সালে একবার বাড়ি সার্চ করতে এসে রীতিমত তোলপাড় করে দিয়ে গেছিল সকলে।
আরও পড়ুনঃ ফিরহাদ ইস্তফা দিলেও ভাঙা হবে না পুর বোর্ড! কেন? জবাবদিহি জন্য নোটিশ জারি রাজ্যের
দোকান পিছু ৫ লক্ষ টাকা ‘কাটমানি’!
পাটুলির স্থানীয় ব্যাসবসায়ীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই তোলাবাজি চলছিল। তাছাড়া ঝিলপাড়ের গজিয়ে ওঠা দোকানগুলোর দিকে বেশি করে নজর চি। কারণ সেগুলোই মোটা অঙ্কের টাকা আনতে পারে। এরপর প্রতিটা দোকানদারের থেকে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে বাপ্পাদিত্য ও সৌরভ। টাকা না দিতে পারায় দোকানও খুলতে দেওয়া হয়নি। ফলে মহা ফ্যাসাদে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
প্রসঙ্গত, শনিবার বাপ্পাদিত্যই প্রথম নন। আগে সৌরভ ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তিনি দীর্ঘদিন পাটুলি এলাকায় প্রতিভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করছিলেন। যার ফলে স্থানীয়রা একপ্রকার ভয় সিঁটিয়ে থাকত। তবে এবার আর সেটা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।













