বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রতিবাদ চলছে। শুক্রবার কলকাতায় সিজেপি ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মিছিল ঘিরে উত্তেজনার পর শনিবার একই ইস্যুতে মিছিল করতে চায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)। কিন্তু কলকাতা পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। সেই আবেদন শুনতে শনিবার ছুটির দিনেও বিশেষ বেঞ্চে শুনানি হবে।
কলকাতা হাই কোর্টে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)
নিট প্রশ্নফাঁস, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন চলছে। তারই প্রভাব পড়েছে কলকাতাতেও। শুক্রবার শহরের রাস্তায় মিছিল করে সিজেপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। তবে সেই মিছিলকে কেন্দ্র করে ধর্মতলা এলাকায় অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালীন তাদের উপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকজন সাংবাদিকও আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
এরপর শনিবার একই দাবিতে মিছিল করার পরিকল্পনা করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)। সংগঠনের দাবি, গত ২৩ জুলাই কলকাতা পুলিশের কাছে তারা অনুমতির আবেদন করেছিল। তাদের প্রস্তাব ছিল, শনিবার দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পদ্মপুকুর থেকে সিআইটি রোড হয়ে মৌলালি মোড় পর্যন্ত মিছিল করা হবে। কিন্তু সেই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হয় টিএমসিপি। শনিবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানো হলে হাই কোর্ট বিষয়টি গ্রহণ করে।
জানা গিয়েছে, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে দুপুর ৩টে নাগাদ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সেই শুনানিতেই মিছিলের অনুমতি নিয়ে সিদ্ধান্তের দিকনির্দেশ মিলতে পারে। এদিকে, শুক্রবারের মিছিল ঘিরে পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা এবং সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে বলেও জানা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ওই মামলাগুলিতে সম্প্রতি বিধানসভায় পাস হওয়া গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, চিহ্নিতদের অনেকেরই ছাত্র আন্দোলন বা নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদের সঙ্গে সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে নয়া নিয়ম জারি করল রাজ্য সরকার
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবারের মিছিলের অনুমতি চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)। এখন নজর আদালতের শুনানির দিকে।













