বাংলাহান্ট ডেস্ক: নজরদারি যত কড়া হচ্ছে, ততই যোগাযোগের পদ্ধতি বদলানোর চেষ্টা করছে জঙ্গি (Terrorists) সংগঠনগুলি। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বাড়ায় এখন তারা তুলনামূলক আড়ালে থাকা ডিজিটাল মাধ্যমকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে কিছু পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটের লাইভ চ্যাট বা ডেটিং-ভিত্তিক মেসেজিং পরিষেবা এবং পরিচয় গোপন রাখা যায় এমন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের তরুণদের কাছে পৌঁছনো, তাদের প্রভাবিত করা এবং গোপনে বার্তা আদানপ্রদানের জন্য এই ধরনের মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন এই কৌশলের পিছনে রয়েছে বলেও দাবি গোয়েন্দাদের।
নজরদারি এড়াতে সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে পর্ন সাইটে যোগাযোগ করছে জঙ্গিরা (Terrorists):
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে, শুধু পরিচিত অ্যাপ এড়িয়ে যাওয়াই নয়, যোগাযোগের ক্ষেত্রে জঙ্গিদের (Terrorists) তরফ থেকে এমন প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া হচ্ছে যেখানে ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন। কিছু ক্ষেত্রে ফোন নম্বর বা ই-মেল ছাড়াই অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যায় বলে সেগুলিকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। টোর-ভিত্তিক কিছু অ্যাপের মাধ্যমেও তথ্য আদানপ্রদানের চেষ্টা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। একাধিক স্তরের এনক্রিপশন ও নোডের মাধ্যমে তথ্য পাঠানোর কারণে এই ধরনের যোগাযোগের উৎস শনাক্ত করা তদন্তকারীদের কাছে কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ নজরদারি ব্যবস্থার বাইরে থেকে গোপন নেটওয়ার্ক চালানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল এবার ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে! উচ্ছ্বসিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট
এর পাশাপাশি ভার্চুয়াল বা ডিজিটাল নম্বর ব্যবহারের পুরনো কৌশলও নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। পুলওয়ামা হামলার তদন্তে জঙ্গিদের একাধিক ভার্চুয়াল সিম ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছিল। এবার বিদেশি সফটওয়্যারের সাহায্যে তৈরি ডিজিটাল নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এমন কিছু বেনামী যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মেরও সন্ধান মিলেছে, যেগুলিতে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া তুলনামূলক দুর্বল। ফলে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের যোগসূত্র খুঁজে বের করা আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এই পুরো কৌশলের আর একটি দিক হল দুর্গম এলাকায় কম গতির নেটওয়ার্কেও যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া। গোয়েন্দাদের মতে, ব্যবহৃত কিছু অ্যাপ ২জি বা EDGE নেটওয়ার্কেও কাজ করতে পারে। জম্মু ও কাশ্মীরের পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সবসময় সহজলভ্য নয়, সেখানেও এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো সম্ভব। নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর কিছু ওয়েবসাইটে প্রবেশের ক্ষেত্রেও ভিপিএন-এর অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এনক্রিপশন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সামনে এখন শুধু বার্তা আটকানো নয়, সেই বার্তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: ভূমিধসের আগেই মোবাইলে অ্যালার্ম! নেপালের বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নবান্নের
তবে জঙ্গিদের (Terrorists) এই ডিজিটাল কৌশল মোকাবিলায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারির পাশাপাশি সন্দেহজনক এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ, বেনামী অ্যাকাউন্ট এবং ভার্চুয়াল নম্বরের ব্যবহার শনাক্ত করার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি যত দ্রুত বদলাচ্ছে, সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিও তত দ্রুত নিজেদের যোগাযোগের পদ্ধতি পাল্টাচ্ছে। তাই শুধু নির্দিষ্ট কোনও অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের উপর নজর রাখলে হবে না, গোটা ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার গতিবিধি বিশ্লেষণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই নতুন সাইবার নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে নিরাপত্তা সূত্রের খবর।













