বাংলাহান্ট ডেস্ক: নির্বাচন মানেই সাধারণত সমীক্ষা, রাজনৈতিক প্রচার আর ভোটের লড়াই। কিন্তু এবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) ঘিরে সামনে এসেছে এক ভিন্ন ছবি। আমেরিকাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চলছে ‘প্রেডিকশন ট্রেডিং’। অর্থাৎ কোন দল জিততে পারে, সেই সম্ভাবনার উপর টাকা লাগিয়ে চলছে বেটিং, যা চলতি ভাষায় জুয়ার সামিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলায় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মে ট্রেডিং (West Bengal Assembly Election 2026)
প্রাথমিকভাবে ২২ এপ্রিল রাতে দেখা যায়, এই প্ল্যাটফর্মে অংশ নেওয়া ট্রেডারদের মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশ মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জিততে পারে। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেস ছিল পিছিয়ে, প্রায় ৪৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে। কিন্তু ২৩ এপ্রিল ভোট শুরু হতেই চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রেন্ড ঘুরে গিয়ে এগিয়ে যায় তৃণমূল। তাদের পক্ষে বেটিং বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ শতাংশে, অন্যদিকে বিজেপি নেমে আসে ৪৪ শতাংশে।
সবচেয়ে বেশি চমক দিয়েছে এই ট্রেডিংয়ের আর্থিক পরিমাণ। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ঘিরেই লেনদেনের অঙ্ক ২২ লক্ষ ৬৮ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে, যা তামিলনাড়ুর তুলনাতেও অনেক বেশি। এই বিপুল অঙ্কের লেনদেন প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক স্তরেও বাংলার নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ এবং জল্পনা ঠিক কতটা তুঙ্গে রয়েছে।
প্রেডিকশন মার্কেটের ধারণা মূলত প্রচলিত এক্সিট পোল বা প্রাক-ভোট সমীক্ষা থেকে আলাদা। এখানে নির্দিষ্ট তথ্য বা নমুনা জরিপের উপর নির্ভর না করে সরাসরি অর্থ লগ্নি করে ফলাফলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়। যে দলের পক্ষে বেশি বেটিং হয় এবং সেই দল জিতলে ট্রেডাররা লাভ করেন। এই পদ্ধতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকেও শুরু করে নানা আন্তর্জাতিক ইভেন্টের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: অশান্তির আশঙ্কা কাটিয়ে ‘শান্তিপূর্ণ’ প্রথম দফার ভোট! কমিশনের তৎপরতায় খুশি শাসক-বিরোধীরা
তবে ভারতে এই ধরনের ট্রেডিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নতুন অনলাইন গেমিং আইন বা PROGA অনুযায়ী, প্রেডিকশন ট্রেডিং বেআইনি। ফলে ভারত সরকারের নিয়ম অনুযায়ী এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা আইনবিরুদ্ধ। তবুও বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, VPN ব্যবহার করে ভারত থেকেও এই প্ল্যাটফর্মে অংশ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বেটিং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ফলাফলকে প্রভাবিত করার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে (West Bengal Assembly Election 2026)।

















