বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর একমাসও কাটেনি। তার আগেই তৃণমূলে (Trinamool Congress) বড়সড় ফাটল। বুধবার দেখা গেল, তৃণমূলের (TMC) একাধিক হেভিওয়েট ‘বিক্ষুব্ধ’ গোষ্ঠীতে নাম লিখিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ প্রাক্তন মন্ত্রী, কেউ আবার দীর্ঘদিন ধরে দলের বিধায়ক।
তৃণমূলের (Trinamool Congress) বিক্ষুব্ধদের তালিকায় কোন কোন নাম?
এদিন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়করা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে সই করা চিঠি জমা দেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্য সচেতক হিসেবে আখরুজ্জামানের নাম প্রস্তাব করা হয়। এতে লিখিত সমর্থন জানান ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক। সেই তালিকায় জোড়াফুল শিবিরের একাধিক হেভিওয়েটের নাম রয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অন্যতম এক মন্ত্রী ছিলেন চন্দ্রনাথ সিনহা। এদিন বিধানসভায় পৌঁছে তিনি সাফ জানান, বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতকে সমর্থন করছেন। রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ ও প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী জাভেদ খানও তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীতে শামিল হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ আয়ুষ্মান ভারত না নিলে কী হবে? বেসরকারি হাসপাতালগুলির জন্য বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার
এছাড়া এই তালিকায় কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা ও নানুরের বিধায়ক কাজল শেখের নাম রয়েছে। তাঁরাও তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীতে নাম লিখিয়েছেন। সেই সঙ্গেই উত্তর দিনাজপুরের গোলাম রব্বানি, হাওড়ার অরূপ রায় থেকে শুরু করে রঘুনাথগঞ্জের আখরুজ্জামানের মতো একাধিক হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীর নাম বিক্ষুব্ধদের লিস্টে রয়েছে।
জেলায় জেলায় তৃণমূলের সংগঠন ধরে রাখতে একসময় এই নেতা-নেত্রীদের উপর চোখ বুজে বিশ্বাস করতেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁরাই বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম লেখালেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এদিন অধ্যক্ষের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে নিজেদের দলনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই উল্লেখ করেছেন ঋতব্রত, জাভেদ, শিউলিরা।

সব মিলিয়ে, তৃণমূলে (Trinamool Congress) এই বিশাল ফাটল আপাতত রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এদিন বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্য সচেতক হিসেবে আখরুজ্জামানের নাম প্রস্তাব করার পাশাপাশি উপ দলনেতা হিসেবে জাভেদ খান, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহার নাম প্রস্তাব রাখা হয়েছে স্পিকারের কাছে। শেষ পর্যন্ত কী হয় আপাতত সেদিকেই নজর সকলের।













