বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোট গণনা ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও স্বস্তি পেল না তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। গণনাকেন্দ্রে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে আপত্তি তুলেছিল শাসকদল। তবে শনিবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, কমিশন তাদের আগের বিজ্ঞপ্তি মেনেই কাজ করতে পারবে। এই মুহূর্তে আদালতের আলাদা কোনও নির্দেশের প্রয়োজন নেই বলেও স্পষ্ট করেছে বেঞ্চ।
গণনা কর্মী বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান (Trinamool Congress)
শনিবার সকালে বিচারপতি পিএস নরসিংহ ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়। তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু। মামলার শুরুতেই কপিল সিব্বল আদালতের কাছে জরুরি শুনানির আবেদন জানান। তিনি দাবি করেন, গত ১৩ এপ্রিল কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তির কথা তারা জানতে পারে অনেক পরে। তাঁর অভিযোগ ছিল, গণনায় প্রতিটি টেবিলে আগে থেকেই মাইক্রো অবজ়ার্ভার হিসাবে কেন্দ্রীয় কর্মী রয়েছেন। তার পরেও কেন আবার শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদেরই কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে রাখা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তৃণমূলের (Trinamool Congress) তরফে আরও বলা হয়, সার্কুলারে রাজ্য সরকারি কর্মীদের রাখার কথাও উল্লেখ ছিল। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে না। কমিশন যে সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কার কথা বলছে, তার কোনও নির্দিষ্ট তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য, দুই ধরনের সরকারি কর্মীকেই নিয়োগ করা যেতে পারে। ফলে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগ করাকে নির্দেশিকা বিরোধী বলা যায় না।
একইসঙ্গে বিচারপতি পিএস নরসিংহ মন্তব্য করেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের আলাদা ভাবে দেখার কোনও কারণ নেই। তাঁর কথায়, “তাঁরা সকলেই সরকারি কর্মচারী।” কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, রিটার্নিং অফিসারের হাতেই গণনার সর্বোচ্চ দায়িত্ব থাকে এবং তিনি রাজ্য সরকারেরই আধিকারিক। পাশাপাশি প্রতিটি প্রার্থীর নিজস্ব কাউন্টিং এজেন্টও উপস্থিত থাকবেন। তাই কারচুপির আশঙ্কার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই দাবি কমিশনের। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, কমিশন ১৩ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তি মেনেই কাজ করবে। এই মুহূর্তে আদালতের অতিরিক্ত কোনও নির্দেশের প্রয়োজন নেই। এর ফলে কার্যত বহাল রইল কমিশনের সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুনঃ বাংলার ভোটে এবার বড় ফ্যাক্টর মুসলিম ভোট! কার দিকে ঝুঁকল সমর্থন?
এর আগে কলকাতা হাই কোর্টও একই মামলায় কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছিল। হাই কোর্ট বলেছিল, ভবিষ্যতে যদি গণনায় কোনও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তা হলে নির্বাচন পিটিশনের মাধ্যমে সেই বিষয় চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তৃণমূল (Trinamool Congress)।













