বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের ঠিক আগে হাওড়ার বালিতে তৃণমূল (Trinamool Congress) কর্মীদের আটক করা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। অভিযোগ, সোমবার গভীর রাতে বুথ এজেন্ট ও দলীয় কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র। পরে পুলিশকে ঘিরে বচসা, থানার সামনে বিক্ষোভ এবং হাই কোর্টে মামলা, সব মিলিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
বালিতে তৃণমূল (Trinamool Congress) কর্মী আটক ঘিরে চাঞ্চল্য
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার রাতে বালির কয়েকটি এলাকায় তৃণমূলের (Trinamool Congress) বুথ এজেন্ট ও কর্মীদের ধরতে যায় পুলিশ। অভিযোগ, বাড়িতে গিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বালির তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র এবং দলের অন্য নেতা-কর্মীরা।
তৃণমূলের দাবি, সতীশ চক্রবর্তী লেন-সহ একাধিক জায়গা থেকে কর্মীদের তুলে নিয়ে যায় বালি ও বেলুড় থানার পুলিশ। কেন তাঁদের আটক করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলতেই পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, এক পুলিশ অফিসার কৈলাস মিশ্রকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। তারপর আটক কর্মীদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বেলুড় থানায় পৌঁছন কৈলাস। সেখানে থানার আইসি’র সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি হয়। তৃণমূলের (Trinamool Congress) অভিযোগ, আটক কর্মীদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর আটক কর্মীদের পরিবারের লোকজনও থানার সামনে জড়ো হন। পরে বেলুড় থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন কৈলাস মিশ্র ও তাঁর সমর্থকেরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় উত্তেজনাও বাড়তে থাকে।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে কৈলাস মিশ্র বলেন, কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়াই গভীর রাতে বুথ এজেন্ট ও ওয়ার্ড সভাপতিদের বাড়িতে হানা দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বলছে অবজার্ভারের নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কৈলাস দাবি করেন, সোমবার সন্ধ্যার পরেও বিজেপি প্রার্থীকে বহিরাগতদের নিয়ে এলাকায় ঘুরতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টে তৃণমূল (Trinamool Congress) কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওয়ারেন্ট দেখতে চাওয়া হলেও পুলিশ তা দেখাতে পারেনি। বরং তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল (Trinamool Congress) প্রার্থী। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বাংলার ভোটে প্রথমবার NIA, কোন কোন এলাকায় বাড়তি নজরদারি?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন রাহুল রায়, রমেন নিয়োগী, রাকেশ চক্রবর্তী ও সোনু পাল। রমেন এবং রাকেশ যুব তৃণমূলের (Trinamool Congress) ব্লক সহ-সভাপতি। রাহুল রায় বালি ব্লক যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বলেও জানা গিয়েছে। এছাড়াও ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুব তৃণমূল সভাপতি সুরজিৎ বিশ্বাসের বাড়িতেও পুলিশি হানার অভিযোগ উঠেছে।












