বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে একমাসও হয়নি। এর মধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলে (Trinamool Congress) বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার বড় ঘোষণা করল জোড়াফুল শিবির। জানানো হয়েছে, রাজ্যে তৃণমূলের (TMC) সব কমিটি এবং এর শাখা সংগঠন অবিলম্বে বিলুপ্ত হল।
তৃণমূলের (Trinamool Congress) তরফে আর কী বলা হয়েছে?
বুধবার সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ‘গভীর বিবেচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বাংলায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি ও শাখা সংগঠন অবিলম্বে বিলুপ্ত হল। দল সর্বস্তরে আত্মবিশ্লেষণ, কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা ও সাংগঠনিক মূল্যায়নের একটি প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে দল ও সব শাখা সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও ঘোষণা করা হবে’।
একইসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের বার্তা, তৃণমূল নিজের সংগঠনকে মজবুত করতে ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলের উপযোগী করে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এদিকে তৃণমূলের তরফে এই ঘোষণা হতেই বেশ কিছু প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বড় স্বস্তি! কলকাতা পুরসভার মাসিক বৈঠক ডাকা নিয়ে বিরাট নির্দেশ হাইকোর্টের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের অল ইন্ডিয়া চেয়ারপার্সন। সেই সঙ্গেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ফলে তাঁরা আর নিজেদের পদে রয়েছেন কিনা সেটা এখনও পরিষ্কার নয়।
জানা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকেই নির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া তথা অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এর মাধ্যমেই বিভিন্ন পদে কারা আসীন হবেন তা বেছে নেওয়া হয়। ফলে তৃণমূলের তরফে সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদও অবলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কথা বলে মনে করছেন অনেকে। একাংশের বক্তব্য, দলীয় সাংগঠনিক নির্বাচন থেকে তাঁকে ফের নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। যদিও শেষ অবধি কী হবে তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলে ফাটলের জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছিল। বুধবার সেই ছবি কার্যত পরিষ্কার হয়ে যায়। এদিন দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়করা অধ্যক্ষের কাছে সই করা চিঠি জমা দেন। সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্য সচেতক হিসেবে আখরুজ্জামান এবং উপ দলনেতা হিসেবে জাভেদ খান, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহার নাম প্রস্তাব করা হয়। এরপরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে রাজ্যে দলের সব কমিটি ও এর শাখা সংগঠন বিলুপ্তির কথা ঘোষণা করে তৃণমূল।













